বইমেলার সময় বাড়ানোর দাবি প্রকাশকদের

আগের সময়সূচি ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ লেখক-পাঠকের

এ বছর এত বিশাল পরিসরে মেলার আয়োজন করাই হলো যাতে করোনা সংক্রমণ না ঘটে। বিশাল পরিসরের এমন পরিপাটি মেলার সময়সীমা কমিয়ে দিয়ে যেন মেলাটিকে জমে উঠবার ক্ষণেই মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হলো। অথচ কী সুন্দরই না এবার মেলার পরিবেশ! কোনো ভিড়, ঠেলাঠেলি নেই। মেলায় প্রবেশের সময় শরীরের তাপমাত্রা মাপা, হাতে স্যানিটাইজার দিয়ে প্রত্যেকে যাতে মেলায় প্রবেশ করে সেটা নিশ্চিত করে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা।

এরপরেও হুট করে মেলার সময় কমিয়ে দেয়ায় প্রকাশক, লেখক ও পাঠকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এবারের মেলা হচ্ছে ১৫ লাখ বর্গফুটের বিস্তৃত পরিসরে। স্টলের বিপণনকর্মী থেকে মেলায় আগত অধিকাংশ মানুষই মানছেন স্বাস্থ্যবিধি। তাহলে মেলা নিয়ে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্ত কেন নেয়া হলো—এমন অভিযোগ মেলায় আসা পাঠক ও লেখকদের। পূর্বনির্ধারিত মেলার সময়সূচি অনুযায়ী মেলা পরিচালনার দাবি জানান তারা। তাদের অভিমত, সময়সূচি না বদলালে প্রকাশকদের জোর করে ক্ষতির মুখে ফেলা হবে।

বাংলা একাডেমির সঙ্গে প্রকাশকদের বৈঠক

মেলার সময় কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে লেখক, প্রকাশক থেকে পাঠক—সবার মধ্যে ক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজীর সঙ্গে বৈঠক করেন জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি ও বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির নেতৃবৃন্দ। বৈঠকে জ্ঞান ও সৃজনশীল সমিতির নির্বাহী পরিচালক মনিরুল হক, সহসভাপতি মিলন কান্তি নাথ ও খান মাহবুব, বিক্রেতা সমিতির সহসভাপতি শ্যামল পাল প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের বিষয়ে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ বলেন, আলোচনায় আমরা সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছি। অর্থাত্ বেলা ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলার সময়সূচি করার প্রস্তাব জানিয়েছি। প্রয়োজনে বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা চালু রাখার প্রস্তাব দিয়েছি। এই প্রস্তাবে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক একমত প্রকাশ করেছেন এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে কথা বলে তিনি এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণের চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মেলা পরিদর্শনে আসেন সংস্কৃতি সচিব বদরুল আরেফীন। এসময় তিনি মেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন এবং সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলার ১৫তম দিনে নতুন বই আসে ৭২টি। এসব বইয়ের মধ্যে আর্ক প্রকাশনী থেকে গাজী কবীরের কাব্যগ্রন্থ ‘ধ্রুপদী’, নন্দিনী সাহিত্য ও পাঠচক্র থেকে সুলতানা রিজিয়ার গল্পগ্রন্থ ‘নির্বাচিত গল্প’, কথাপ্রকাশ থেকে মোশতাক আহমেদের কিশোর গোয়েন্দা গল্প ‘নিতুর টিয়া’, রফিকুর রশীদের গল্পগ্রন্থ ‘আতংকিত রাত্রিদিন’, সিঁড়ি প্রকাশন থেকে চঞ্চল শাহরিয়ারের কাব্যগ্রন্থ ‘অনুভবে ফিরে আসা’, আগামী প্রকাশনী থেকে মোনায়েম সরকার এবং আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর বঙ্গবন্ধু বিষয়ক পৃথক গ্রন্থ ‘আমার বঙ্গবন্ধু আমার বাংলাদেশ’, সময় প্রকাশন থেকে মোহাম্মদ ফয়েজ উজ্জামানের জন-ইতিহাস গ্রন্থ ‘মুজিবনগর সরকার ১৯৭১’ এবং চৌধুরী শহীদ কাদেরের ‘ত্রিপুরা ১৯৭১’, নাগরী প্রকাশন থেকে আন্দালিব রাশদীর কাব্যগ্রন্থ ‘মহুয়ার সাথে’ এবং কবি প্রকাশনী থেকে রেজাউদ্দিন স্টালিনের কাব্যগ্রন্থ ‘বরফের বই’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
ইত্তেফাক/এমএএম