ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চলছে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন। আট ধাপের এই নির্বাচনে ইতিমধ্যে দ্বিতীয় ধাপের ভোট শেষ হয়েছে। পূর্ব মোদিনীপুরের নন্দীগ্রামে গতকাল বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সেখানেই প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। নির্বাচনের আগে প্রচারণায় এসে তিনি এখানেই পা ভেঙেছিলেন।
পরে ভাঙা পা নিয়েই হুইল চেয়ারে বসে প্রচারণা চালিয়ে যান। হাসপাতালেও ছিলেন একদিন। তার দু'পায়েই ব্যাণ্ডেজ করানো হয়। এ নিয়ে প্রথমে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিজেপির ওপর দোষ চাপানো হয় যে, তাদের নেতাকর্মীরা ইচ্ছে করেই এ কাণ্ড ঘটিয়েছে। যদিও তাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ প্রত্যাখান করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে নির্বাচন কমিশনও তৃণমূলের দাবি উড়িয়ে দেয়।
এদিকে, আজ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, ভাঙা পা নাড়াচ্ছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। যা নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক।
বিজেপির দাবি, নন্দীগ্রামে ভোট চলাকালীন মোবাইল ক্যামেরা দ্বারা ভিডিও ধারণ করা হয়েছে এবং তৃণমূলের কেউ এ কাজ করেছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামাতে কিংবা মন্তব্য করতে রাজি নন তৃণমূলের নেতারা।
এ বিষয়ে রাজ্যের বর্তমান মন্ত্রী ও বালিগঞ্জ কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত মুখোপাধ্যায় আনন্দবাজারকে বলেন, তারা (বিজেপি) অমানবিক। তাই এ ধরনের মিথ্যা তথ্য প্রচার করতে পারে। এই ভিডিও সত্য নয়, তাদের জালিয়াতি।
বিকেলের দিকে রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র প্রণয় রায় ফেসবুকে ভিডিওটি পোস্ট করে বলেন, ঘটনাটি যে নাটক তা আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি। এবার দিদি (মমতা বন্দোপাধ্যায়) নিজেই তা প্রমাণ করলেন। যে পায়ে তার ব্যাথা বলে দাবি করা হচ্ছিল সেটিকেই তিনি দিব্যি নাড়াচ্ছেন। তাছাড়া ভাঙা পায়ের ওপর এভাবে অন্য পা চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।
ইত্তেফাক/টিএ