মিয়ানমারে ‘গেরিলা কায়দায়’ সংগঠিত হওয়ার ডাক

গোপনীয়তা আইনে সু চির বিরুদ্ধে নতুন মামলা

রয়টার্স

সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের প্রতিবাদে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলনের পাশাপাশি মিয়ানমারের নতুনভাবে সংগঠিত হওয়ার উপায় বের করার চেষ্টা করছেন বিক্ষোভকারীরা। যোগাযোগের উপায় সীমিত হয়ে যাওয়ায় সামনের দিনগুলোতে দেশবাসীকে ‘গেরিলা কায়দায়’ প্রতিবাদ অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা। এদিকে মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চির বিরুদ্ধে সরকারি গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা হয়েছে বলে তার আইনজীবী জানিয়েছেন।

অভ্যুত্থানবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী এখন নিজেদের মধ্যে রেডিও তরঙ্গ, অফলাইন ইন্টারনেটের কায়দাকানুন ও মোবাইল বার্তার মাধ্যমে নিউজ অ্যালার্ট সরবরাহকারীদের নম্বর বিনিময় করে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করছে। কর্তৃপক্ষ নতুন বিধিনিষেধ দেওয়ায় দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার এ দেশটিতে এখন কেবল ফিক্সড-লাইনেই ইন্টারনেট সেবা চালু আছে, তারবিহীন ব্রডব্যান্ড যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইন্টারনেট নিয়ে নতুন এ আদেশের বিষয়ে টেলিকম কোম্পানিগুলোর কাছে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি সামরিক জান্তা। অভ্যুত্থানবিরোধী আন্দোলন দমনে এর আগে তারা মোবাইল ডাটায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।

বিক্ষোভকারীরা বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া এক আহ্বানে বিভিন্ন বাসস্টপে ‘ফুল হামলা’ চালানোরও ডাক দিয়েছে; নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত অনেক বিক্ষোভকারীরই শেষযাত্রা এসব বাসস্টপ থেকে হয়েছিল। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বিক্ষোভকারীদের এক নেতা খিন সাদার বলেছেন, ‘আগামীকাল (শুক্রবার) আমরা বাসস্টপগুলোতে ফুল রেখে আসব। ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে এটুকুই আমি আপনাদের জানাতে চাই। সামনের দিনগুলোতে সড়কে আরো বিক্ষোভ হবে। যত বেশি সম্ভব গেরিলা আঘাত হানুন। আমাদের সঙ্গে যোগ দিন। চলুন ফের রেডিও শুনি, একে অপরকে ফোন করি।’

এক সময়কার ব্রিটিশ উপনিবেশ মিয়ানমার গত ১ ফেব্রুয়ারি সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই টালমাটাল দিন কাটাচ্ছে। সেনাশাসনবিরোধী বিক্ষোভ এরই মধ্যে দেশটিতে অন্তত ৫৪৩ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বলে জানিয়েছে মিয়ানমারে অভ্যুত্থানবিরোধী কর্মসূচিতে হতাহত ও গ্রেফতারের খোঁজখবর রাখা গোষ্ঠী অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিকাল প্রিজনার্স। বৃহস্পতিবার দিনের পাশাপাশি রাতেও বিভিন্ন শহরের রাস্তায় অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ দেখা গেছে। অনেক জায়গায় আন্দোলনকারীরা সামরিক বাহিনীর করা ২০০৮ সালের সংবিধানের কপি পুড়িয়েছে। এদিনও পুলিশের গুলিতে দুই জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবামাধ্যমগুলো। নিহতদের মধ্যে ১৮ বছর বয়সি এক জন আছে বলেও জানিয়েছে তারা।

এদিকে মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চির বিরুদ্ধে সরকারি গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে বলে তার আইনজীবী জানিয়েছেন। ঔপনিবেশিক আমলের এই আইন ভাঙার মামলাটিই সামরিক শাসনবিরোধী গণতন্ত্রপন্থি এ নেত্রীর বিরুদ্ধে আনা সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ। এই আইনের অধীনে দোষী সাব্যস্ত হলে সু চির ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। বৃহস্পতিবার তার প্রধান আইনজীবী খিন মং জাও টেলিফোনে জানান, এক সপ্তাহ আগে ইয়াঙ্গুনের একটি আদালতে সু চি, তার পদচ্যুত মন্ত্রিসভার তিন সদস্য ও অস্ট্রেলিয়ান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা শন টার্নেলের বিরুদ্ধে সরকারি গোপনীয়তা আইনের অধীনে মামলা হয়েছে।