অর্থনীতির বই

‘বাংলাদেশে বাজেট অর্থনীতি ও রাজনীতি’

 

‘১৯৭২-৭৩ সালে বাংলাদেশের বাজেট ছিল স্থূল জাতীয় উত্পাদনের (জিডিপি) ১৭.৪ শতাংশ। আর ২০২০-২১ সালে অর্থমন্ত্রী দাবি করেছেন, বাংলাদেশের বাজেট জিডিপির ১৭.৯ শতাংশ। অর্থাত্ গত ৪৯ বছরে বাংলাদেশে জিডিপির হিস্যা হিসাবে বাজেট মাত্র ০.৫ শতাংশ বেড়েছে।’ বাজেট পরিসংখ্যান নিয়ে এরকম আরো কিছু চমকপ্রদ তথ্য দিয়ে ড. আকবর আলি খান তার সর্বশেষ বই ‘বাংলাদেশে বাজেট :অর্থনীতি ও রাজনীতি’ প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘বাজেটের সংখ্যায় আমাদের অভিভূত হলে চলবে না। সংখ্যাকে বিচার-বিবেচনা করে মূল্যায়ন করতে হবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রাজনীতিবিদেরা এই কাজটি তাদের মতো করে করতে চান। তাদের বক্তব্যে যুক্তি নয়, প্রচারণার জোর বেশি থাকে।’ আরেক জায়গায় তিনি লিখলেন, ‘বাজেটে রাজনীতিবিদদের আগ্রহ ব্যয় বরাদ্দে, যত ব্যয় বাড়বে, তত রাজনীতিবিদদের মক্কেলদের খুশি করা যাবে। সরকারের যত ব্যয় বেশি হবে, তত রাজনীতিবিদদের জন্য অনুপার্জিত মুনাফা বা ঘুষের পরিমাণ বাড়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদেরা আয় এবং ব্যয় উভয় বিষয় নিয়েই উদ্বিগ্ন। বাজেট যদিও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, তবু বাজেট শুধু রাজনীতিবিদদের হাতে ছেড়ে দেওয়া সঠিক হবে না।

পরার্থপরতার অর্থনীতি দিয়েই পাঠকদের চমকে দিয়েছিলেন ড. আকবর আলি খান। ২০০০ সালে যখন বইটি বের হয়, তখন তিনি মূলত একজন আমলা। অর্থনীতি মানেই জটিল, দুর্বোধ্য কিছু, নির্দিষ্ট পাঠক এই ধারণার বাইরে গিয়ে লেখার নতুন এক রীতি নিয়ে হাজির হয়েছিলেন তিনি। এর পরের ২০ বছর অর্থনীতির পাঠকদের অপেক্ষা করতে হলো। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন শেষে আকবর আলি খান অর্থসচিব হয়েছিলেন ১৯৯৫ সালে। লেখক আকবর আলি খানের খানিকটা পরিচয় মিলেছিল সে সময়েই। মন্ত্রিপরিষদ সচিব হয়েই সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেন তিনি। সর্বশেষ বই বাংলাদেশে বাজেট :অর্থনীতি ও রাজনীতি তার ১৪ বছরের গবেষণারই ফল। বইটি প্রকাশ করেছে প্রথমা প্রকাশনা। ৯টি বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই বইটিতে আছে অভিজ্ঞতার সঙ্গে তত্ত্বের সংমিশ্রণ। বইটিতে বাজেটের পরিবর্তনগুলো যেমন ধরার চেষ্টা করা হয়েছে, তেমনি বাংলাদেশের বাজেট ব্যবস্থার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তার সমাধানগুলোও খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন তিনি। আকবর আলি খানের ভাষায়, ‘সরকারের বাজেটের লক্ষ্য শুধু সরকারের আয় ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা নয়, এর লক্ষ্য হলো দেশের জনগণের জন্য গ্রহণযোগ্য একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা। বাজেটের কর্মকাণ্ড তাই অনেক ব্যাপক।’ তিনি বাজেট ব্যবস্থাপনা সংস্কারে বেশ কিছু সুপারিশ উপস্থাপন করেছেন।

 

 

০