রায়পুরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর

দেখা দিয়েছে ফাটল উঠে যাচ্ছে পলেস্তারা

এম আর সুমন, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা

রায়পুর উপজেলার হাজিমারা এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্প ২-এর আওতায় গৃহহীনদের জন্য নির্মিত ঘর হস্তান্তরের এক মাসেই কয়েকটির দেওয়াল ও মেঝেতে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে বরাদ্দপ্রাপ্তদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সরজমিনে দেখা যায়, ২৫টি ঘরের মধ্যে ছয়টি ঘরের দেওয়াল ও মেঝেতে ছোট-বড় ফাটল। উঠে যাচ্ছে মেঝের পলেস্তারা। চরলক্ষ্মী গ্রামের মোহাম্মদ আলী ফকিরকে বরাদ্দ দেওয়া ২০ নম্বর ঘরের দেওয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে ও মেঝের আস্তর উঠে গেছে। ৭ নম্বরে বরাদ্দপ্রাপ্ত আয়শা খাতুন বলেন, ‘আমরার নামে পাওয়া এই ঘরডায় একটু ভেতরে আইয়া দেহুন, সব ফাইটা গেছে।’ তার পাশের ঘরের বরাদ্দপ্রাপ্ত রহিম মিয়া ও সাজেদা বেগম জানান, তাদের ঘরগুলোতে পিলারসহ বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আজমত আলী ও খোরশেদসহ বেশ কয়েকজনের অভিযোগ, গৃহনির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও সিমেন্ট কম দিয়ে মিস্ত্রিরা কোনোরকমে ঘর তৈরি করে দিচ্ছেন। এ জন্যই দেওয়াল, মেঝেতে ফাটল দেখা দিয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গত ২৩ জানুয়ারি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করার পর একযোগে উপজেলা পরিষদের হলরুমে সুবিধাভোগী পরিবারগুলোর হাতে ২৫টি ঘর ও জমির দলিল তুলে দেওয়া হয়। প্রতিটি ঘর নির্মাণের জন্য ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। রাজমিস্ত্রি সুভাশ ও মোবারক জানান, সময় কম ও বাজেটও কম পাওয়ায় দ্রুততার সঙ্গে কাজ করতে হয়েছে। ভিটের মাটি নরম থাকায় ঘরগুলোতে ফাটল ও মেঝে দেবে গেছে।

দক্ষিণ চরবংশি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সালেহ মিন্টু ফরাজির দাবি করেন, বরাদ্দ কম হওয়ায় ঘরগুলো নির্মাণে কিছু সমস্যা থাকতে পারে। কিন্তু সময় কম থাকায় ও আশপাশে ইরি খেতে পানি দেওয়ায় ঘরে ফাটল ও দেবে গেছে। পরে ঠিক হয়ে যাবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরীন চৌধুরী জানান, ঘর নির্মাণে তাদের তদারকি বা আন্তরিকতায় কোনো ঘাটতি ছিল না। প্রতিটি ঘরই ভালো ইট, সিমেন্ট, বালু, কাঠ, টিন দিয়ে যত্নসহকারে নির্মাণ করা হয়েছে। এগুলো আমাদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। তার পরেও কোনো সমস্যা হলে দ্রুত মেরামত করা হবে। জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোসেন আকন্দ বলেন, রায়পুরে চরকাছিয়া গ্রামের ঘরগুলো পরিদর্শন করেছি। প্রয়োজনীয় মেরামতের মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী করতে উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি। সর্বোচ্চভাবে নজরে রাখছি।