চাটমোহরে ১২০ ফুট গভীরেও মিলছে না সেচের পানি

চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা

চাটমোহরে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে। ফলে প্রয়োজনীয় পানির অভাবে বোরো আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। কৃষকরা জানান, ১০০-১২০ ফুট গভীরে পাইপ বসিয়েও মিলছে না পানি। পানির স্তর নাগালে পেতে অনেকে পাঁচ-সাত ফুট পর্যন্ত মাটি গর্ত করে সেখানে শ্যালো মেশিন বসিয়ে পানি তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এছাড়া গুমানী, চিকনাই ও বড়াল নদীর তলদেশে শ্যালো মেশিন বসিয়ে পানি তোলা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পানি না পেলে বোরো উত্পাদন হ্রাস পাবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

সরেজমিনে উপজেলার নিমাইচড়া ইউনিয়ন, হান্ডিয়াল ইউনিয়ন ও হরিপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠে বোরো আবাদের জমিতে দেখা যায়, অনেক বোরো চাষি গভীর নলকূপ স্থাপনের পরও জমিতে সেচকাজে আশানুরূপ পানি পাচ্ছেন না। তারা গর্তের মধ্যে মেশিন বসিয়ে পানি তোলার চেষ্টা করছেন। অনেকে আবার নদীতে পাইপ স্থাপন করে পানি তুলছেন। শুধু ফসলের মাঠে নয়, নলকূপ দিয়ে পানি পেতে সমস্যা হচ্ছে। ভুক্তভোগী বোরো চাষিরা বলেন, ১০০-১২০ ফুট গভীরে পাইপ বসিয়েও সেচকাজের জন্য ঠিকমতো পানি পাওয়া যাচ্ছে না। শ্যালো মেশিনে পানি কম ওঠায় বোরো চাষাবাদে জ্বালানি খরচ বেড়ে গেছে। সেচকাজে সময় বেশি লাগছে। বসতবাড়িতে পানি সমস্যায় নলকূপ আলাদা আলাদা স্থানে স্থাপন করে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএডিসির পানাসি প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলা সেচ কমিটির সদস্য সচিব মো. ফারুক আহমেদ বলেন, সাধারণত ১০০-১২০ ফিট গভীর পর্যন্ত পাইপ বসালে সেচের পানি পাওয়া যায়। তবে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বর্তমানে এ গভীরতায় সেচের জন্য প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যাচ্ছে না। চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আরো নিচে নেমে যেতে পারে। বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এমন অবস্থা হয়েছে। বৃষ্টি হলেই পানির লেয়ার স্বাভাবিক হবে। এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এ মাসুম বিল্লাহ বলেন, চলনবিলের নদী, ডোবা, নালা ও খালে পানি থাকলে বোরো চাষিদের সেচ কাজে অসুবিধা হতো না। অতিবৃষ্টি হলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কিছুটা ওপরে উঠবে। নয়তো বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে পানির স্তর বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।