‘আমি নিজেকে ভাঙতে গড়তে পছন্দ করি’

এদেশের পপ গানে দীর্ঘদিন ধরে রাজত্ব করার ইতিহাস নেই। মেহরীন সেই ব্যতিক্রমী নাম। অনেকেই পপ গান দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করে গান থেকে ইস্তেফা দিয়েছেন। অথচ নিজের সংগীতপ্রেম, সংসারসহ সবকিছু সামলে অনন্যা হিসেবে থেকেছেন তিনি। সাম্প্রতিক কাজ নিয়ে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

আপনার সাম্প্রতিক কাজ নিয়ে জানতে চাই—

জাতির জনকের ১০ দিনব্যাপী আয়োজনে ২ দিন আমার প্রোগ্রাম ছিল, সেটা শেষ করলাম। বাংলাদেশ অবস্থিত নেপাল অ্যাম্বেসির অ্যাম্বাসেডর হিসেবে একটি প্রোগ্রাম ছিল। করোনা বেড়ে যাওয়ায় বেশকিছু শো বন্ধ হয়ে গেল। ইচ্ছে ছিল নতুন গান করার কিন্তু মনে হচ্ছে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি করোনাকালীন নিজের ইউটিউব চ্যানেল নিয়েও কাজ করছি।

এক সময়ের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মেহরীনকে শ্রোতারা আগের মতো পাচ্ছে না কেন?

পাচ্ছে না এমন না। আমি কোনোদিনই নিয়মিত ছিলাম না। অনেক বিরতি দিয়েই গান প্রকাশ করি। তবে যখনই কোনো গান দিয়েছি তখন হিট গানই উপহার দিয়েছি। আসলে একটি ভালো কাজ করতে গেলে একটু সময় প্রয়োজন হয়।

আপনি পপ গান, প্লেব্যাক থেকে শুরু করে বিভিন্ন ঘরানার গান গেয়েছেন। কোন ঘরানার গান গাইতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?

আমি আসলে সবসময়ই নতুন কিছু করতে চাই। আমি নিজেকে ভাঙতে গড়তে পছন্দ করি। আমি পপ ঘরানার শিল্পী হলেও নিজের এই গানেও কিন্তু বারবার পরিবর্তন এনেছি। একই ধরনের কাজ শ্রোতাদের দিইনি। আর রবীন্দ্র-নজরুলের গান করেছি নিতান্তই ভালোলাগা-ভালোবাসা থেকে। সেই জায়গা থেকে লালনের গান করারও ইচ্ছে রয়েছে।

গানের পাশাপাশি উপস্থাপনাও করেন। নানা মাধ্যমে এই পদচারণার কোনো কারণ আছে কী?

না, কোনো কারণ নেই। আর গানের পাশাপাশি উপস্থাপনাও করছি না। গান আমার ভালোবাসা। এই গান নিয়েই থাকতে চাই। তবে সংবাদ পড়েছি এটা বলতে পারেন। উপস্থাপনা খারাপ বা করবো না এটা বলছি না। সবকিছু মিলে গেলে উপস্থাপনা করতেও পারি।

এখন শিল্পীরা কোনো লেভেল কোম্পানি বা প্রকাশকের কাছে না গিয়ে নিজেরাই গান রিলিজ দিচ্ছেন। এই বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?

এটা খুবই ভালো একটি দিক। যে যার মতো স্বাধীনভাবে কাজ করবে এটাই নিয়ম। কারণ গান একটি স্বাধীন মাধ্যম।

বর্তমান সময়ে ভিউ গুণে গানের মান বিচারের একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। বিষয়টি আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

গানের মানের বিচার করবে শ্রোতারা। আমি বিচার করার কেউ না। আমি গান গাই বলে অন্যের গান নিয়ে কটাক্ষ করবো সেই অধিকারও আমার নেই। আমি শুধু গানটির ভেতরে ভালো কী আছে সেটা খুঁজতে পারি।

এখন অনেক হাস্যকর গানও ভাইরাল হচ্ছে। এটা শুদ্ধ সংগীত চর্চার ওপর প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেন না?

না, প্রভাব ফেলছে বলে মনে হয় না। কারণ সংগীত সবসময় শুদ্ধ ছিল। পাশাপাশি সেসময়ও এ ধরনের সংগীত চর্চা ছিল। সেগুলোকে নিম্নবর্গের গানও বলা হতো। শুরু থেকেই দর্শকরা-শ্রোতারা ভালো-মন্দ দেখে গান গ্রহণ করেন।

আপনি সংগীতের সোনালি যুগ থেকে এখন অবধি নিয়মিত কাজ করছে। সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে বর্তমান সংগীত ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

এখন আমার মনে হয় কাজের অবস্থা অনেকটাই ভালো। এখন সব জেনারেশনের শিল্পীরাই ভালো ভালো কাজ করছেন। সবাই একক কাজের পাশাপাশি সম্মিলিতভাবে কাজ করছেন। তবে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি যদি বলেন, সেটার তো অভাব আছেই। এখন ইন্ডাস্ট্রি বলতে কিছু নেই। এখন একটি ছাদের নিচে, পুরো টিম নিয়ে কাজ করার মতো অবস্থা নেই। এটা শিল্পী নির্ভর একটি মাধ্যম হয়ে গেছে। আর শিল্পীরা তো বাণিজ্যিক হবে না। যতদিন শিল্পীরা বাণিজ্যিকভাবে সাপোর্ট না পাচ্ছে ততদিন এটাকে ইন্ডাস্ট্রি বলা যাবে না।

অনেকেই অভিযোগ করেন সংগীতশিল্পীদের রয়্যালিটির বিষয়ে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?

শিল্পীরা নিজেরাই রয়্যালিটির বিষয়টি ঠিকঠাক জানেন না। যতক্ষণ তারা বিষয়টিতে অবগত না হবে এই সমস্যার সমাধান হবে না।

এই মাধ্যটিতে ক্যারিয়ারের নিশ্চয়তা কতটা আছে বলে মনে করেন?

আর্টের লাইনে কেউ ক্যারিয়ারের নিশ্চয়তা দিতে পারবে না। ইন্ডাস্ট্রি যেহেতু নেই সেহেতু এই বিষয়টি ব্যবসা হিসেবে নেওয়া বোকামি হবে। কারণ এখানে স্থায়ী আয়ের কোনো সুযোগ নেই। এ জন্যই কিন্তু শিল্পীরা ঝরে যায়।