আসামে এক বিজেপি প্রার্থীর গাড়িতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে যাওয়া হচ্ছে—এমন একটি ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলো বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ তুলেছে। তবে নির্বাচনি কর্মকর্তাদের দাবি, ইভিএম মেশিনসহ তারা ঐ গাড়িতে ‘লিফট’ নিয়েছিলেন। এ ঘটনার পর ঐ বুথে নতুন করে ভোট গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে চার নির্বাচনি কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি ক্ষমতাসীন বিজেপি।
গত বৃহস্পতিবার আসামে দ্বিতীয় দফায় ৩৯ আসনে ভোটগ্রহণ হয়। ঘটনাটি ঘটে রাতাবাড়ি বিধানসভা আসনে। যার গাড়িতে ইভিএম পাওয়া গেছে তিনি হলেন কৃষ্ণেন্দু পাল। রাতাবাড়ির পাশের পাথরকান্দি আসনের বিজেপি প্রার্থী তিনি। ভিডিওতে দেখা গেছে, পাথরকান্দি বিধানসভা আসনের বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু পালের গাড়িতে করে ইভিএম নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আসামের এক সাংবাদিক ভিডিওটি টুইট করেন। সেখানে দেখা গেছে, একটি সাদা রঙের বোলেরো গাড়িতে ইভিএম নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ঐ ব্যক্তির দাবি, পাথরকান্দির বিজেপি প্রার্থী তথা বিদায়ী এমএলএ কৃষ্ণেন্দু পালের গাড়িতে ইভিএম উদ্ধারের পর এখানে উত্তেজনা রয়েছে। গাড়িটি কৃষ্ণেন্দুর বলে ভিডিওতে দাবি করা হয়।
এ নিয়ে টুইটারে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী লিখেছেন, ভোটের সময় যখনই কোনো প্রাইভেট গাড়িতে ইভিএম নিয়ে যাওয়ার ছবি ধরা পড়ে, আশ্চর্যজনকভাবে প্রতিবারই কিছু মিল পাওয়া যায়। ঐ গাড়িগুলো সাধারণত বিজেপি প্রার্থীর হয়।
এআইইউডিএফ নেতা বদরুদ্দিন আজমল বলেছেন, ভোট পোলারাইজেশন, ভোট কেনা, প্রার্থী কেনা, জুমলাবাজি, ডাবল মুখ্যমন্ত্রিত্ব, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে দুমুখো কথা ব্যর্থ হয়েছে। তাই গণতন্ত্রকে হত্যা করতে বিজেপি শেষ অস্ত্র হিসেবে ইভিএম চুরির পথ নিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, যে গাড়িটি করে ইভিএম নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সেটি খারাপ হয়ে গেলে কর্মীরা সাদা রঙের বোলেরো গাড়িটি কার তা যাচাই না করেই তাতে ইভিএম তুলে নেন।