বিক্রি শুরু হতেই বন্ধ হলো মেলা

দুপুরের রোদ পড়ে আসতেই মেলা জমে উঠতে শুরু করেছিল। ছুটির দিনে বিকালে যখন মানুষের আনাগোনা বেড়েছে ঠিক তখনই মেলা বন্ধ হওয়ার ঘোষণা এলো বাংলা একাডেমির মাইকে। স্টল গুছিয়ে প্রকাশকরা, মেলায় আসা পাঠকরা ধরলেন বাড়ির পথ। মেলার নতুন সময়সূচি প্রকাশকের জন্য তো বটেই, পাঠকের জন্যও সুবিধাজনক হয়নি। প্রকাশকরা বিক্রি করতে না পেরে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আর পাঠকরা বই কেনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

কাগজে-কলমে মেলা যতই সাড়ে তিন ঘণ্টা খোলা থাকুক না কেন রোদ পড়ে না এলে কেউ মেলায় আসেন না। তাই মেলার সময় যদি কমাতেই হয় তাহলে দিনের বেলা কমিয়ে তা বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত চার ঘণ্টা খোলা রাখলে সবার জন্যই তা মঙ্গলের হবে। কিন্তু এ কথা কে কাকে বোঝাবে!

গতকাল শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় মেলায় পাঠকের আনাগোনা বেড়েছিল। ছিল দল বেঁধে তরুণদের ঘোরাফেরাও। মেলার দুয়ার খুলে গিয়েছিল সকাল এগারোটায়। কিন্তু এই গরমের মধ্যে পাঠকের আনাগোনা একেবারেই ছিল না। দুপুরের পর রোদের তেজ কমে এলে মানুষর ভিড় বাড়তে শুরু করে।

গতকাল মেলা জুড়ে আলোচনার বিষয়ই ছিল মেলার এমন অদ্ভুত সময়সূচি করার কারণ কী? এদিকে, মেলা ঘুরে দেখা যায়, প্রকাশনী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রেতারা হতোদ্যম হয়ে বসে আছে। করোনার পর এক বছর বিক্রি বন্ধ থাকার পর মেলা করে যেখানে তারা কিছুটা আয়ের পথ খুঁজছিলেন, নতুন এ সময়সূচি তাদের সেই আয়ের পথও বন্ধ করে দিয়েছে। বরং আর্থিক ক্ষতি হবে সবারই।

অবসর প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক মাসুদ রানা বলেন, ‘মেলা হচ্ছে দেখে নতুন করে ৫০টি গ্রন্থ প্রকাশ করা হয়েছে। এর বাইরে পুরোনো বইও প্রিন্ট করা হয়েছে। নতুন করে লাখ লাখ টাকা লগ্নি করার পর এখন যে অবস্থা তাতে প্যাভিলিয়ন বানানোর যে খরচ সেটাই উঠে আসা কঠিন।’

অনুপম প্রকাশনীর প্রকাশক মিলন কান্তি নাথ বলেন, ‘যে সময়টায় বিক্রি শুরু হয় তখনই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে মেলা। ফলে, দোকান খোলা আর বন্ধই হচ্ছে, বই বিক্রি তেমন হচ্ছে না। ফেব্রুয়ারিতে যখন মেলা হয় তখন শীতকাল থাকে। মানুষ ৩টার সময়ই মেলায় চলে আসে। এখন গরম পড়েছে। তাই রোদ না পড়লে কেউ মেলায় ঢুকছেন না।

শিশু চত্বর আছে নেই শিশুদের হুটোপুটি

করোনাকালীন সময়ে বইমমেলায় শিশুপ্রহর না থাকায় ছুটির দিনের সকালে শিশুদের দেখা মেলে না এখন। বেলা ১২টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ছিল কিছু মানুষের পদচারণা। এসময় কয়েক জন অভিভাবকের সঙ্গে দেখা মেলে এক-দুজন শিশুরও।

চিলড্রেন বুকস সেন্টারের স্বত্বাধিকারী জগলুল সরকার জানান, মেলার প্রথম পহরে শিশুরা না এলে আমাদেরও ভালো লাগে না। বই বিক্রি বড় বিষয় না, কিন্তু আমরা শিশুদের বই প্রকাশ করি, তাদের জন্য কাজ করি, এমন অবস্থায় শিশুরাই যদি না আসে, তাহলে কীভাবে চলে।

মেলায় আসা জাকিয়া সুলতানা বলেন, সকাল সকাল বাচ্চাদের নিয়ে মেলায় এলাম। কিন্তু এখানে এসে বেশ হতাশ হলাম। ভেবেছিলাম শিশুপ্রহর না থাকলেও অন্তত অনেকেই আসবেন। অথচ শিশু চত্বরসহ পুরো মেলাই একেবারে ফাঁকা।

নতুন বই :একুশে বইমেলার ১৬তম দিন গতকাল নতুন বই এসেছে ১৯৯টি। এতে রয়েছে গল্প-৩৩, উপন্যাস-৩৭, প্রবন্ধ-৭, কবিতা-৫৪, গবেষণা-৯, ছড়া-৪, শিশুসাহিত্য-১, জীবনী-৪, রচনাবলি-৩, মুক্তিযুদ্ধ-৬, নাটক-০, বিজ্ঞান-২, ভ্রমণ-৪, ইতিহাস-২, রাজনীতি-১, চিঃ/স্বাস্থ্য-২, বঙ্গবন্ধু-২, রম্য/ধাঁধা-১, ধর্মীয়-৩, অনুবাদ-১, অভিধান-০, সায়েন্স ফিকশন-২ এবং অন্যান্য-২১টি বই। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যহচ্ছে—অনুপম প্রকাশনী এনেছে আনিসুল হকের ‘ভয় নয়, জয় দেখান’, আগামী প্রকাশনী এনেছে আসাদ চৌধুরীর ‘বঙ্গবন্ধু-মুক্তিযুদ্ধ’, ময়ূরপঙ্খি এনেছে মঞ্জু সরকারের ‘খোকা সব পারে’, কথাপ্রকাশ এনেছে আহমদ রফিকের ‘একান্তবিচারে বিদেশি মনীষা’, অনিন্দ্য প্রকাশ এনেছে খালেক বিন জয়েনউদদীনের ‘বঙ্গবন্ধু ও রাসেলের গল্প’, মোশতাক আহমেদের ‘নক্ষত্রের রাজারবাগ’, আসলাম সানীর ‘বাংলাদেশের কনিষ্ঠ ভূমিপুত্র শেখ রাসেল’, অক্ষর প্রকাশনী এনেছে সুজাতা আজিমের ‘চলচ্চিত্রে আমার ৫৫ বছর’, দ্য পপ আপ ফ্যাক্টরি এনেছে মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘ব্যাঙ আর বনের পশু’, রেনেসাঁ এনেছে প্রত্যয় জসীমের ‘ইতিহাস প্রসিদ্ধ বিপ্লব’, শিকড় এনেছে রেজাউদ্দিন স্ট্যালিনের ‘একুশের দিনগুলো’ প্রভৃতি।

ইত্তেফাক/কেকে