পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের বিরোধী দলগুলোর মিছিল থেকে স্লোগান উঠছে, গো নিয়াজী গো। ইমরানের গোত্রগত পদবী নিয়াজী। এই গোত্র বহু বছর আগে মঙ্গোল আক্রমণের মুখে পড়ে আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনওয়া প্রদেশে অভিবাসী হয়।
জাতিসংঘের ভারতীয় প্রতিনিধি দলও এই নিয়াজী পদবির সূত্র ধরে ইমরানকে নিয়ে মস্করা করেছিল। মস্করার মূল কারণ আরেক বিখ্যাত বা কুখ্যাত নিয়াজী। তার পুরো নাম লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী। তিনি ইমরানের আত্মীয় নন তবে গোত্রেরই সদস্য। তিনি ৯৩ হাজার সৈন্যসহ বাংলাদেশ-ভারত মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরে করা এ আত্মসমর্পণ পৃথিবীর সামরিক ইতিহাসেই এক বিরল ঘটনা। যুদ্ধ শেষে পাকিস্তানে হামিদুর রহমান কমিশন ঘটিত হয়। কেন পাকিস্তান যুদ্ধে হারলো তা তুলে ধরাই এ কমিশনের কাজ ছিল। কমিশনের রিপোর্টে নিয়াজী ও আরও ছয় সামরিক অফিসারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর তদন্ত করার সুপারিশ করা হয়।
পূর্ব পাকিস্তানে থাকাকালে নিয়াজীর অধীনস্ত অফিসাররা তার বিরুদ্ধে পান চোরাচালান করার অভিযোগ আনেন। পূর্ব পাকিস্তানের পানের ব্যাপক চাহিদা ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে। যুদ্ধকালীন সময়ে নিয়াজী এগুলো ওখানে চোরাচালান করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
বলা হয়, নিজস্ব স্টাফ অফিসার দিয়ে এ ব্যবসা চালাতেন নিয়াজী। তারা স্বাভাবিক রফতানি বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
হামিদুর কমিশনের রিপোর্টে আরও বলা হয়, পূর্বাঞ্চল কমান্ডের ছয়জন উচ্চপদস্থ অফিসার বড় অংকের 'মানি মুভমেন্টে' জড়িত ছিলেন। সিরাজগঞ্জের একটি ব্রাঞ্চ থেকেই এক কোটি ৩০ লাখ টাকা তারা সরিয়ে ছিলেন।
জুলফিকার আলী ভুট্টোর সরকার এই হামিদুর কমিশন গঠন করেছিল। ১৯৭৫ সালে বিচারক রেহমান কমিশনের রিপোর্ট ভুট্টোর কাছে জমা দেন। তবে শেষ পর্যন্ত রিপোর্টটি ভুট্টোর পছন্দ হয়নি।
(লেখক: মতিউর চৌধুরী, লন্ডনের সিনিয়র সাংবাদিক। লেখাটি লন্ডনটাইমস২৪ থেকে অনূদিত এবং সংক্ষেপিত)