নতুন বই

বাংলাদেশের খুনিচক্র

মহসীন হাবিব

অঙ্কুর প্রকাশনী

প্রচ্ছদ: সোহেল আশরাফ। মূল্য: ১৮০ টাকা

 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার ষড়যন্ত্রের নেপথ্যের রহস্য-জাল আজো সম্পূর্ণ ছিন্ন হয় নাই। অথচ এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আঘাত করা হয়েছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার মর্মের ওপর। একাত্তরে বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল একটি মানবিক ও আন্তঃধর্মীয় সংহতি এবং জীবনের সমৃদ্ধির আশায়। বঙ্গবন্ধু ছিলেন সেইসব আদর্শের প্রতীক। মুক্তির জন্য মানুষের যে আকাঙ্ক্ষা, সেই প্রেরণার প্রধান উত্স ছিলেন বঙ্গবন্ধু। সেজন্য বঙ্গবন্ধু-হত্যার ষড়যন্ত্রের প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন জরুরি।

বাংলাদেশের জন্ম ও সংকটের সূচনা দিয়ে ‘বাংলাদেশের খুনিচক্র’ গ্রন্থটির আলোচনা শুরু হয়। দ্বিতীয় অধ্যায়ে আছে মুজিব সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য পাকিস্তানের পরিকল্পনার বিশদ বিবরণ। তৃতীয় অধ্যায়ে জামায়াত ইসলামীর জন্ম, উত্থান, রাজনৈতিক ভূমিকা এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জামায়াতের রাজনীতি থেকে নির্বাসিত হওয়ার ঘটনা। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাহাত্তরে রচিত সংবিধানে চারটি মূলনীতির একটি ছিল ধর্ম নিরপেক্ষতা। এই সংবিধানের ৩৮ নম্বর অনুচ্ছেদ দ্বারা বাংলাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে গঠিত রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এর ফলে রাজনীতি করার সুযোগ হারিয়েছিল জামায়াত ইসলামী দলটি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতের পুনরুত্থান কী করে হলো, সেসব ষড়যন্ত্রের সমীকরণও বিধৃত হয়েছে এই পর্বে। চতুর্থ অধ্যায়ে চুম্বক পরিসরে উঠে এসেছে মুজিবহত্যার ষড়যন্ত্রের কথা। এরপর ঘাতক দলের পুনর্বাসন কী করে ঘটানো হলো, তার সূক্ষ্ম বিষয়াদি উঠে এসেছে পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে।

গ্রন্থটি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের এই সময়ে অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণভাবে প্রাসঙ্গিক। কারণ যারা এবং যে উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল, তারা এবং তাদের উদ্দেশ্য এখনো তলে তলে তীব্রভাবে প্রবহমান। যে ভাবাদর্শ নিঃশেষ করে দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর জীবনকে, রাষ্ট্রকে ঠেলে দিয়েছে সামরিক শাসনের দিকে, জায়গা করে দিয়েছে ধর্মান্ধতার এবং দুর্বল করেছে ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে—সেই ভাবাদর্শ ধারণকারীরা এখনো বেঁচে আছে সুকৌশলে অন্ধকারের আড়ালে, সুযোগ ও অনুকূল পরিবেশের অপেক্ষায়।