আহমেদ সাঈদ বুলবুল, যশোর অফিস
ভৈরব নদ খনন কার্যক্রম কার্যত প্রহসনে পরিণত হয়েছে। দফায় দফায় খনন কাজের সময় বাড়ানো আর অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত ৫১টি ব্রিজ-কালভার্ট ভৈরব নদের গলার ফাঁস হয়ে উঠেছে।
সূত্র জানায়, যশোরবাসীর লাগাতার আন্দোলনের কারণে সরকার ভৈরব নদ সংস্কার প্রকল্প হাতে নেয়। ২০১৬ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড ২৭২ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করে। পাঁচ বছর মেয়াদি ‘ভৈরব রিভার বেসিন এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় ৯২ কিলোমিটার নদ খনন করা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী নদের উজান ও ভাটির ৭০ কিলোমিটার কাজ শেষ হয়েছে। জটিলতা চলছে শহরের দড়াটানা অংশের কাজ নিয়ে। শহরের কাঠেরপুল থেকে বিরামপুর পর্যন্ত চার কিলোমিটার খনন নিয়ে দেখা দেয় জটিলতা। এই অংশের খনন ২০১৯ সালের ৬ আগস্ট শুরু হয়ে ২০ সালের ২০ জুন শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু অগ্রগতি বলতে দড়াটানায় নদের পাশে বার কয়েক এক্সকাভেটর নামিয়ে কিছু একটা করার চেষ্টা করা হয়েছে। যা শহরবাসী দেখেছেন। এরই মধ্যে ফের প্রকল্পের মেয়াদ দ্বিতীয় দফায় চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তাতেও থেমে থাকেনি কর্তৃপক্ষ। করোনার অজুহাতে আবারও তৃতীয় দফায় মেয়াদ বৃদ্ধি করে ২০২২ সালের জুন মাস পর্যন্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কাজ শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিলেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম বলেন, করোনাকালে ভৈরব নদ খনন কাজে ব্যাঘাত ঘটেছে। তবে খননকাজে অবহেলা ও সময়ক্ষেপণের কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং কার্যাদেশ বাতিল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া ভৈরব নদ খননের মেয়াদ বৃদ্ধি করে ২০২২ সালের জুন মাস পর্যন্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। এ খনন কাজে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হবে—যা প্রক্রিয়াধীন। খনন কাজ তৃতীয় দফায় বৃদ্ধি করা সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে নদ খননকাজ ঢিমেতালে চললেও অপরিকল্পিত ব্রিজ-কালভার্ট অপসারণে কোনো উদ্যোগ নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত ৫১টি ব্রিজ-কালভার্ট ভৈরব নদের গলা চেপে ধরেছে। এর মধ্যে যশোর সদরে রয়েছে ৩৪টি, চৌগাছা উপজেলায় ১৬টি এবং ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় একটি। বর্তমানে ম্যাপ অনুযায়ী নদের প্রস্থ শহরে ১৫০ মিটার এবং শহরের বাইরে ৩০০ মিটার রয়েছে। কিন্তু ব্রিজ-কালভার্ট করা হয়েছে ১২ থেকে ৭০ মিটার। এতে নদীর গতিপথ যেমন কমেছে তেমনি দখল ও দূষণ চলেছে সমানতালে। পাশাপাশি অপরিকল্পিত ব্রিজ-কালভার্টের কারণে ব্যাহত হচ্ছে খননকাজও।
এ বিষয়ে পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম বলেন, ভৈরব নদে ৫১টি অপরিকল্পিত ব্রিজ-কালভার্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৯টি অপসারণ করা জরুরি। তা না হলে ভৈরব খননের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না। এসব ব্রিজ-কালভার্ট সওজ, এলজিইডি এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নির্মাণ করা হয়েছে। এগুলো অপসারণে সংশ্লিষ্টদের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। অপসারণের পর নতুন করে করারও প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে।