পশ্চিমবঙ্গে তৃতীয় দফায় ভোটগ্রহণের আগে জমে উঠেছে প্রচারণা। গতকাল শনিবার প্রায় একই সময়ে পৃথক জনসভায় বক্তব্য রাখেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। দুই জনের বক্তব্যেই ছিল আক্রমণ-পালটা আক্রমণ।
মুখ্যমন্ত্রী মমতার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘তৃণমূল বলছে, দিদি বারানসী আসন থেকে আগামী লোকসভা নির্বাচনে লড়বেন। এতে দুটো জিনিস স্পষ্ট। দিদি পশ্চিমবঙ্গে নিজের হার স্বীকার করে নিয়েছেন। তাই বাইরে যাওয়ার কথা ভাবছেন। নিজের জন্য জায়গা খুঁজছেন। বারানসী, কাশী, উত্তর প্রদেশের মানুষ এত বড় মনের যে তারা আপনাকে ‘বহিরাগত’, ‘পর্যটক’ বলবে না। বাংলার মানুষের মতোই বড় মন তাদের।’ পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সোনারপুরের জনসভায় মোদি আরো বলেন, ‘শুনলাম তৃণমূলে যে সব বিচক্ষণ ব্যক্তি রয়েছেন, তারা সকলেই দিদির নন্দীগ্রাম আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমালোচনা করছেন। তারা বলছেন, নন্দীগ্রামে গিয়ে দিদি ভুল করেছেন। আমি জানতে পারলাম, মমতা নন্দীগ্রামে হারছেন বুঝে তৃণমূলের লোকজন ঠিক করে ফেলেছিলেন তাকে অন্য আসনে নামানো হোক। কেউ কেউ আবার বুঝিয়েছেন যে, সেটা আরো বড় ভুল হবে। কারণ দুটো আসনে হারলে তৃণমূলের পরবর্তী রাজনৈতিক যাত্রা আরো কঠিন হয়ে যাবে।’ তারকেশ্বরে অন্য এক জনসভায় তিনি বলেন, ‘দিদি নির্বাচন কোনো খেলা নয়, গণতন্ত্র খেলা নয়, গণতন্ত্র মানুষের সেবার পথ, উন্নয়নের পথ। এসব ভুলে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সঙ্গে আপনারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। মানুষ এই বিশ্বাসঘাতকতার জবাব দেবে। প্রথম দুই দফার নির্বাচনেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে, তৃণমূলের খেলা শেষ।’
তিনি বলেন, ক্রিকেটে কোনো খেলোয়াড় বারবার আম্পায়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললে বুঝতে হবে, তার খেলায় খুঁত আছে। নির্বাচনে কেউ কখনো ইভিএমকে গালি দিলে, কখনো কমিশনকে গালি দিলে, বুঝতে হবে তার খেলা শেষ।
অন্যদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দীঘিতে এক জনসভায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি অভিযোগ করেন যে, নন্দীগ্রামে ভোটের সময় বিজেপির সন্ত্রাসীরা মহিলা, শিশুদের অপহরণ করার ভয় দেখিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম না করে তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের আগে গুন্ডা আমদানি করতেই বাংলাদেশ সফরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বিজেপি থেকে সাবধান, তাদের হাতে আছে স্টেনগান।’ মমতা বলেন, ‘তিনি (মোদি) বাংলাদেশ ঘুরে এসেছেন। মনে হয়, সেখান থেকেও কিছু আমদানি করছেন। করতেই পারেন। তার কারণ, অন্য সময় তিনি বলেন, মমতা অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে আসছেন। আর নির্বাচনের সময় ভোট চাইতে গেছেন। গুন্ডা আমদানি করতে গেছেন।’
সিপিএম, কংগ্রেসের জোট শরিক ইন্ডিয়ান সেকুলার ফন্টের প্রতিষ্ঠাতা ফুরফুরা শরিফের পিরজাদা আব্বাস সিদ্দিকিকে আক্রমণ করে মমতা বলেন, ‘ফুরফুরা শরিফের এক জনকে নিয়ে হায়দ্রাবাদ থেকে বিজেপির এক বন্ধু এসেছে। কয়েক কোটি টাকা খরচ করে সাম্প্রদায়িক স্লোগান দিচ্ছে। আর হিন্দু-মুসলমান ভাগ করার চেষ্টা করছে। তাদের ভোট দেবেন না। তাদের একটা ভোট দেওয়া মানে বিজেপিকে ভোট দেওয়া।’