সিরাজগঞ্জে হত্যা মামলায় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের ভাতিজা নান্নু বিশ্বাস আটক

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার এনায়েতপুর থানার সদিয়াচাঁদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি নান্নু বিশ্বাসকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি বেলকুচি উপজেলার মেঘুল্লা গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদ বিশ্বাসের ছেলে এবং সাবেক মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ও সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের ভাতিজা। এদিকে নান্নু বিশ্বাসকে নিয়ে এ মামলায় মোট সাত জন আসামিকে আটক করা হলো।

এনায়েতপুর থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, সদিয়াচাঁদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের অদূরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। আজগড়ার আব্দুল জলিলকে খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি নান্নু বিশ্বাসকে শনিবার দুপুরে আজগড়া থেকে পুলিশ আটক করে।

পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, গত ২৪ মার্চ থানার বেতিল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে মাঠে দিনব্যাপী সদিয়াচাঁদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমার্ধে আলোচনাসভা শেষে বিকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য মমিন মন্ডল ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রত্যক্ষ ভোটে সভাপতি পদে সাবেক সভাপতি সিরাজুল আলমকে হারিয়ে শাহাদত হোসেন তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনিকে হারিয়ে বুদ্দু মিয়া বিজয়ী হচ্ছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রার্থীদ্বয়ের সমর্থকদের মধ্যে সম্মেলন স্থলের বাইরে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরই এক পর্যায়ে উরুতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আজগড়া জামাত মোড় এলাকার পথচারী আব্দুল জলিলের মৃত্যু হয়। এছাড়া উভয় পক্ষে আহত হয় আরো কয়েক জন।

এ ঘটনায় ২৬ মার্চ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের ভাতিজা নান্নু বিশ্বাসকে প্রধানসহ ৭২ জনের নাম উল্লেখ করে নিহত আব্দুল জলিলের চাচা শ্বশুর দৌলতপুর আঞ্চলিক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।