সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে নারীসহ হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতারা অবরুদ্ধ করে রাখার পর সন্ধ্যায় হাজার হাজার হেফাজত কর্মী উদ্ধার করে নিয়ে যায়। ঐ নারীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেছেন মামুনুল হক। গতকাল শনিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে গতকাল শনিবার সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে এসেছিলেন বেড়াতে। পরে স্থানীয় যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতারা তাকে আটক করে লাঞ্ছিত করেছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে মামুনুল হকের পরনে থাকা জামাটিও ছিঁড়ে গেছে।
এদিকে মামুনুল হককে আটকের খবর পেয়ে বাদ মাগরিব সোনারগাঁয়ের সকল মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষক জড়ো হন রয়েল রির্সোটে। হেফাজতের লোকজনের আসার খবরে পালিয়ে যান ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা। এ সময় ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন সোনারগাঁ উপজেলা ইউএনও আতিকুল ইসলাম, এসি ল্যান্ড মোস্তফা মুন্নাসহ প্রশাসনের লোকজন।
সেখানে মাদ্রাসার ছাত্ররা রাস্তায় দাঁড়িয়ে মামুনুল হকের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। এ পর্যায়ে তারা রয়েল রির্সোটের মুল ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে মামুনুল হককে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে মুসল্লিরা মামুনুল হককে নিয়ে রয়েল রিসোর্ট ত্যাগ করেন। কিন্তু তার সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত রয়েল রিসোর্টের নিচতলা ও জিম থেকে শুরু করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
এদিকে আরেক দল এসে মামুনুলের স্ত্রীকে ছেড়ে দিতে শ্লোগান দিতে থাকে এবং তারা ব্যাপক ভাঙচুর করে। পরে ৮টার দিকে মহিলা পুলিশের পাহারায় মুসল্লিদের হাতে তার স্ত্রীকে তুলে দেন। পরে হেফাজতের লোকজন মামুনুল হক ও তার স্ত্রীকে নিয়ে বিক্ষোভ করতে করতে মোগরাপাড়া হাবিবপুর ঈদগাঁও মাঠে জমায়েত হয়। সেখানে হেফাজতের নেতারা বক্তব্য রাখার পর কয়েকশ হেফাজত কর্মী স্লোগান দিয়ে সোনারগাঁ থানা ঘেরাও করতে চাইলে মামুনুল হক একটি হ্যান্ড মাইকে তাদের শান্ত হতে বলেন এবং আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বারণ করেন। তিনি বলেন, আমি প্রমাণ করব আমার সঙ্গে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী। তাছাড়া স্ত্রীকে নিয়ে আমি যেখানে সেখানে ঘুরতে যেতে পারি। কিন্তু ছাত্রলীগ-যুবলীগের উচ্ছৃঙ্খল লোকজন আমাকের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে।
এদিকে মামুনুল ও স্ত্রীকে ছেড়ে দেওয়ার পর সমর্থরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে মহাসড়কে গিয়ে টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে। পরে তারা আওয়ামী লীগের অফিস ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় হেফাজত কর্মীরা যুবলীগ নেতার গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জায়েদুল আলম গণমাধ্যমকে জানান, মামুনুল হক রয়েল রিসোর্টের একটি কক্ষে নারীসহ অবস্থান করছেন—এমন খবরে স্থানীয় লোকজন রিসোর্ট ঘেরাও করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। মামুনুল হক পুলিশকে জানিয়েছেন, সঙ্গে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। পরে পুলিশ তাকে নিরাপত্তা দিয়ে সেখান থেকে উদ্ধার করেছে।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তবিদ রহমান সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে জানান, আমরা মামুনুল হকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। মামুনুল হকের রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। এ দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন গণমাধ্যমকে বলেন, অনেকদিন ধরেই মাওলানা মামুনুল হকসহ হেফাজতের নেতাদের বিষয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। নানামুখী এ ষড়যন্ত্রের মধ্যে আজকের এ ঘটনাও ষড়যন্ত্র কি না, আমরা দলীয়ভাবে তা খতিয়ে দেখব।
সুনামগঞ্জে হামলা-ভাংচুর: এদিকে, মামুনুলের আটকের খবরে হেফাজতের নেতা-কর্মীরা গতকাল সুনামগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে হামলা ও ভাঙচুর করেছে। হামলা হয়েছে ছাতক থানাতেও। গতকাল রাতে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় ছাতক থানার ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, মামুনুল হক ‘আটক’ হয়েছেন এমন খবর ছাতক পৌর শহরে প্রচার হলে রাত ১০টার দিকে শহরে খণ্ড খণ্ড মিছিল বের করে তার অনুসারীরা। পরে মিছিলগুলো একত্র হয়ে থানার সামনে গিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাংচুর শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কমপক্ষে ৪০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও ছোড়ে। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।