যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ক্যাপিটল ভবন কমপ্লেক্সে হামলায় পুলিশ কর্মকর্তা নিহতের ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, এই সহিংস হামলার কথা জেনে তার হূদয় ভেঙে গেছে। তিনি পুলিশ অফিসারের মৃত্যুতে তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। এছাড়া তার সম্মানে হোয়াইট হাউজের পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। অপরদিকে, ডেমোক্রেটিক হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেছেন, এই জঘন্য হামলার ঘটনায় আমেরিকানদের হূদয়টাই ভেঙে গেছে। তিনিও ক্যাপিটল ভবনে পতাকা অর্ধনমিত রাখার ঘোষণা দেন। নিহত ইভান্সকে ‘গণতন্ত্রের শহিদ’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। রিপাবলিকান সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা মিচ ম্যাককনেল বলেছেন, তিনি নিহত পুলিশ কর্মকর্তার জন্য প্রার্থনা করছেন।
জানা গেছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এর সঙ্গে সন্ত্রাসী সংযোগ নেই বলে সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন। কর্মকর্তারা বলছেন, গত জানুয়ারি মাসে ক্যাপিটল হিলের রক্তাক্ত দাঙ্গার তিন মাসের কম সময়ের ব্যবধানে আবারও এই হামলার চেষ্টা হলো। তবে এ হামলার সঙ্গে সন্ত্রাসী তত্পরতার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ওয়াশিংটন ডিসির মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান রবার্ট কনটে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এখন পর্যন্ত এই হামলাকে সন্ত্রাসবাদের ঘটনা বলে মনে হচ্ছে না। তদন্তের কাজ করছেন এমন দুই জন আইনশৃঙ্খলা বিভাগের সূত্র জানিয়েছে, সন্দেহভাজন হামলাকারীর বয়স ২৫ বছর। তদন্তের সঙ্গে জড়িত দুজন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে বলেছেন, সন্দেহভাজন হামলাকারীর নাম নোয়াহ গ্রিন। তিনি ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা।
বিবিসি জানায়, ঘটনার দিন ক্যাপিটল হিলের পুলিশের অ্যালার্ট সিস্টেম থেকে একটা মেইল আসে। যেখানে বলা হয়, ক্যাপিটল হিলের ভেতরে বাইরে যারা রয়েছে তারা যেন কোনো কিছুর আড়ালে অবস্থান করে নিজেদেরকে রক্ষা করেন। ঠিক ঐ সময় সন্দেহভাজন ঐ ব্যক্তি একটি নীল রঙের সেডান গাড়ি নিয়ে ক্যাপিটলের উত্তর দিকের ব্যারিকেডের ওপর আছড়ে পড়ে। তারপর চালক গাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে ছুরি দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। একসময় পুলিশের একজন সদস্য আগ্নেয়াস্ত্র বের করে তাকে গুলি করে। হামলাকারী নিহত হবার আগেই তার ছুরিকাঘাতে দুজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন।