‘জানালার গল্প’ দিয়ে ভাঙাচোরা অতীত দেখা

  রাবেয়া বেবী

 

জানাল জীবনের গল্প বলে। জানালা দিয়েই হারিয়ে যাই আমার শৈশবে। আবার খুঁজে পাই প্রায়াত হওয়া বড় বোনের সঙ্গে মিষ্টি স্মৃতি। মায়ের ভালোবাসা ধরা দেয় আমার জানালার ওপারে। জানালা দিয়ে দেখতে পাই স্বপ্ন, রূপকথা আবার জীবনের ভাঙাচোরা অতিত। তাই নিজের প্রথম একক চিত্র প্রদর্শনীর নাম করেছেন ‘জানালার গল্প’। প্রদর্শনীর নাম নিয়ে এভাবেই বলেন শিল্পী ফুলেরশ্বরী প্রিয়নন্দিনী। ৩ এপ্রিল শিল্পাঙ্গনে শুরু হয় তার প্রথম একক চিত্র প্রদর্শনী।

প্রদর্শনীর শিল্পকর্মগুলো ঠিক জেন ছবি নয়, ছবির সঙ্গে আরো কিছু। উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথি অধ্যাপক রোকেয়া সুলতানা শিল্পকর্মগুলোকে ‘থ্রি ডাইমেনশন পেইনটিং’ বলে আখ্যা দেন। কীভাবে শুধু জানালা নিয়েই শিল্পকর্মগুলো প্রদর্শনীতে উঠে আসে প্রশ্ন করলে বলেন, মা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর জানালা নিয়ে কিছু অসমাপ্ত কাজ আর মায়ের কাজের জায়গাগুলোর শূন্য হয়ে পড়ে থাকাই জানালার গল্পের নেপথ্য। এর আগে মায়ের প্রথম প্রয়াণ দিবসে তিনি মায়ের শিল্পকর্ম আর ভাই কারু তিতাসের ছবি নিয়েও একটি প্রদর্শনীতে অংশ নেন। ছিল সম্মিলিত চিত্র প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা। সব মিলিয়েই একক প্রদর্শনীর চিন্তা করে দুই বছর ছবি আঁকেন। বেশ কিছু কাজ জমে গেলেও প্রদর্শনীতে স্থান পায় ২৬টি শিল্পকর্ম। কারণ শিল্পী চান অনেক কাজে দেওয়াল না ভরিয়ে কিছু জায়গা দর্শকের চিন্তার খোরাক জোগাতে। তাই তো শিল্পকর্মের নামও দিয়েছেন—ফেলে আসা দিন, লেইস ফিতার দুপুর, নীল দেয়ালের ঘর, নিঝুম সন্ধ্যায়, স্টেশন রোড-যশোর, তেপ্পান্ন গলি, প্যারিস বসন্ত-এর মতো। করোনার কথা চিন্তা করেই প্রদর্শনীর ই-ক্যাটালগ করা হয় বলে জানান আয়োজকেরা। আর লকডাউন হলে করা হবে অনলাইন প্রদর্শনীর ব্যবস্থা। প্রদর্শনী ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবাই দেখতে পারবেন।