নকশা পুনর্বিবেচনা করতে হবে
ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সোনাহাট স্থলবন্দরগামী সড়কে দুধকুমার নদের ওপর নির্মাণাধীন সেতুটির কাজ প্রায় ১৭ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। নির্মাণাধীন এই সেতুর অদূরে পুরোনো নড়বড়ে প্রায় দেড়শতবর্ষী রেলসেতুর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে পাথরবাহী ভারী যানবাহন।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে একনেক বৈঠকে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দরগামী সড়কের পাইকেরছড়া ইউনিয়নের দুধকুমার নদের ওপর নড়বড়ে প্রায় দেড়শতবর্ষী রেলসেতুর দক্ষিণে অপর একটি সড়ক সেতু নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়। ৬৪৫ মিটার দৈর্ঘ্যের ১৩ পিলারবিশিষ্ট এই সেতুর নির্মাণব্যয় ধরা হয় প্রায় ২৩২ কোটি টাকা। সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ২২ জুলাই। মূল সেতু, সংযোগ সড়ক ও নদীশাসনসহ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২১ সালের ২২ জানুয়ারির মধ্যে। গত বৃহস্পতিবার সেতু এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত আরো দুই মাস অতিবাহিত হলেও সেতুর পূর্ব প্রান্তে একটিমাত্র অ্যাবাটমেন্টের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। কোনো পিলার হয়নি। সেতুর দুই প্রান্তের একপ্রান্তেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। পূর্ব প্রান্তে নদীশাসন কাজ চলমান রয়েছে।
সোনাহাট সেতু নির্মাণে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ও ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্সের প্রকল্প পরিচালক শামিম রেজা জানান, পাইলিংয়ের পর পিলারের কাজ করতে হয়। পাইলিংয়ে ভারী যন্ত্রপাতির ব্যবহার হয়। দুধকুমারের তলদেশের বালু চিকন। চিকন বালু ভারী যন্ত্রপাতির চাপ ধরে রাখতে না পারার কারণে পাইলিংয়ের সময় ধসের সৃষ্টি হয়। যার ফলে পাইলিং করা সম্ভব না হওয়ার মূল সেতুর কাজ প্রায় ১৭ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া সেতুর উভয় পাশে জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না হওয়ায় সংযোগ সড়কও নির্মাণ করা যাচ্ছে না। তিনি আরো জানান, এসব সমস্যার কারণে পশ্চিম তীরের নদীশাসন কাজও করা যাচ্ছে না।
কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম জানান, দুধকুমার নদের সয়েল কন্ডিশনের কারণে পাইলিংয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। মিহি বালুর কারণে পাইলিংয়ের সময় ধসের সৃষ্টি হয়ে যন্ত্রপাতিসহ আশপাশের কিছ অংশ দেবে যায়। এই সেতুর সেতুর ডিজাইন রিভিউ করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, সোনাহাট সেতুর সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দ্রুত মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করা হবে।