নিত্যপণ্যের বাজার হঠাত্ চড়া, ক্রেতাদের ভিড়

রমজান উপলক্ষ্যে এমনিতেই নিত্যপণ্যের বাজার ছিল অস্থির। এবার রমজানের সঙ্গে যুক্ত হলো ‘লকডাউন’। এ দুইয়ের প্রভাবে গতকাল রবিবার বাজারে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। আর ক্রেতার বাড়তি চাপ বুঝে একশ্রেণির ব্যবসায়ী পণ্যের দামও বাড়িয়ে দিয়েছেন-এমন অভিযোগ ক্রেতাদের।

গতকাল রাজধানীর কাওরানবাজার, মালিবাগ ও মহাখালীসহ কয়েকটি কাঁচাবাজারে খোঁজ নিয়ে নিত্যপণ্যের বাজারের এ চিত্র পাওয়া গেছে। বাজারগুলোতে ঘুরে দেখা যায়, গতকাল ছুটির দিন না হলেও সকাল থেকেই ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে। অনেকের মধ্যেই আগেভাগে বাজার করে ঘরে ফেরার প্রবণতা কাজ করেছে। আর বেশিরভাগ ক্রেতাকেই প্রয়োজনের বেশি পণ্য কিনতে দেখা গেছে। এদিকে বাজারে পণ্যের চাহিদা বাড়ার সুযোগে কোনো কোনো পণ্য বাড়তি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বিশেষ করে সয়াবিন তেল, চিনি, আটা, ময়দা, এ্যাংকর ডালের দাম বেড়েছে। এছাড়া সবজির দামও বেশ চড়া।

গতকাল বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১২০ থেকে ১২৫ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। অথচ খোলা সয়াবিনের সরকার নির্ধারিত দর হলো ১১৭ টাকা। এছাড়া ১ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা ও ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন ৬৩০ থেকে ৬৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়। দাম বেড়েছে চিনিরও। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি চিনিতে ৩ টাকা বেড়ে বিক্রি হয় ৬৮ থেকে ৭০ টাকা। খোলা ময়দার কেজি বিক্রি হয় ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা। যা দুইদিন আগেও কেজিতে ২ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে। এক কেজির প্যাকেট ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। এদিকে সারাবছর এ্যাংকর ডালের দাম স্থিতিশীল থাকলেও হঠাত্ করেই এ ডালটির দামও বাড়তি। কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।

আদার দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। দেশি ও আমদানিকৃত উভয় আদাই কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি দেশি আদা ৮০ থেকে ১২০ টাকা ও আমদানিকৃত আদা ৮০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

গতকাল বাজারে সবজির দামও ছিল চড়া। প্রতি কেজি শিম ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, মুলা ৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়। অথচ শীতকালীন সবজির ভরা মৌসুমে শিম ২০ টাকা, মুলা ১০ থেকে ১৫ টাকা ও বেগুন ২৫ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে। একই অবস্থা ছিল ফুলকপি, বাঁধাকপির ক্ষেত্রেও। মৌসুমে ১৫ থেকে ২০ টাকার মধ্যে ভালো মানের ফুলকপি ও বাঁধাকপি পাওয়া গেছে। আর এখন দাম বাড়লেও বাজারে যেসব ফুলকপি, বাঁধাকপি পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোর মান ভালো নয়। তবে প্রতি কেজি টমেটো ও গাজর এখনো ২০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া শীত মৌসুমে ভালোমানের যে লাউ বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে তা এখন ৫০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

এদিকে বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজি পটল, বরবটি, ঢেঁরস, করল্লা উঠলেও দাম বেশি। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পটল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করল্লা ৪০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, কচুমুখী ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বরবটি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় আলুর কেজি ২ টাকা বাড়লেও তা এখনো ১৮ থেকে ২০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে সবজির দাম বাড়লেও পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচের দাম কিছুটা কমেছে। কেজিতে ৫ টাকা কমে দেশি পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা ও আমদানিকৃত পেঁয়াজ ২৮ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ৫০ টাকা ছিল।

কাওরানবাজারের সবজি ব্যবসায়ী আমজাদ বলেন, বাজারে একদিকে শীতকালীন সবজির সরবরাহ কমেছে। অন্যদিকে লকডাউনের কারণে পণ্য সরবরাহে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। এছাড়া আগামী সপ্তাহে রমজান শুরু হবে। সবমিলিয়ে দাম একটু বেশিই থাকবে।

এদিকে গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির দাম একটু কমলেও গতকাল তা আবার বেড়েছে। কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা। এছাড়া সোনালি মুরগি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, লেয়ার ১৯০ থেকে ২০০ টাকা ও দেশি মুরগি ৪৬০ থেকে ৪৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়। অন্যান্য মাংসের মধ্যে গরু ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা ও খাসি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

হঠাত্ করে বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে মহাখালী বাজারে ক্রেতা আসমা আক্তার বলেন, ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর জন্য উপলক্ষ্য খোঁজে। বাজারে ক্রেতার ভিড় বেশি দেখে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকারের উচিত বাজারে অভিযান চালিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।