গাইবান্ধায় ঘণ্টাব্যাপী কালবৈশাখীর তাণ্ডবে গাছ ভেঙে পড়ে ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে গাইবান্ধা সদরে চার, পলাশবাড়ীতে তিন, ফুলছড়িতে দুই ও সুন্দরগঞ্জে একজন রয়েছেন। নিহতরা হলেন:গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের বাকেরপাড়া গ্রামের ইউনুছ আলীর স্ত্রী জাহানারা বেগম (৫০) ও একই ইউনিয়নের মোস্তফাপুর গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে আবদুল গোফ্ফার (৪২), সদর উপজেলার মালিবাড়ী ইউনিয়নের ঢনঢনিপাড়া গ্রামের মিঠু মিয়ার স্ত্রী সাহারা বেগম (৪১), সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত হলদিয়া গ্রামের সোলায়মান আলীর স্ত্রী ময়না বেগম (৪৭) এবং ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কাতলামারী গ্রামের বিশু মিয়ার স্ত্রী শিমুলি বেগম (২৬), গাইবান্ধা সদরের রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের হরিণসিংগা গ্রামের হিরু মিয়ার ছেলে মুনির (৫), একই ইউনিয়নের আরিফ খান বাসুদেবপুর গ্রামের রিজু মিয়ার স্ত্রী আর্জিনা বেগম (২৮), একই উপজেলার বাদিয়াখালি ইউনিয়নের রিফাইতপুর সরকারের টারি গ্রামের খোগেন্দ্র চন্দ্রের স্ত্রী জোসনারাণী (৫৫), পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের কুমেদপুর গ্রামের আবদুল কাদের মিয়ার স্ত্রী মমতা বেগম (৬৪) ও ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের ডাকাতিয়ার চর গ্রামের মৃত বারেক মিয়ার ছেলে হাফিজ উদ্দিন (৬৫)। গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মতিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া ঝড়ে কাঁচা ঘরবাড়ি ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার বেলা ৩টার দিকে হঠাত্ কালবৈশাখী শুরু হয়। এ সময় পলাশবাড়ী উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের ডাকেরপাড়া গ্রামের জাহানারা বেগম বাড়ির উঠানে সাংসারিক কাজ করছিলেন। একপর্যায়ে বাড়ির একটি গাছ উপড়ে পড়ে। এতে গাছের নিচে চাপা পড়ে জাহানারা ঘটনাস্থলেই মারা যান। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে আবদুল গোফ্ফার মোস্তফাপুর বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে একটি গাছ উপড়ে তার শরীরের ওপর পড়ে। গাছে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলে তিনি মারা যান। বেলা সোয়া ৩টার দিকে কিশামত হলদিয়া গ্রামের ময়না বেগম বাড়ির আঙিনায় কাজ করছিলেন। এ সময় বাড়ির একটি গাছ ভেঙে পড়লে তিনি এর নিচে চাপা পড়ে মারা যান।
বিকাল পৌনে ৪টার দিকে ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কাতলামারি গ্রামের বিশু মিয়ার স্ত্রী শিমুলি বেগম বাড়ির উঠানে কাজ করার সময় গাছচাপায় তিনি মারা যান। গাইবান্ধা সদরের ঢনঢনিপাড়ার সাহারা বেগম ঝড় শুরু হলে খড়ি কুড়াতে বাড়ির উঠানে যান। এ সময় গাছের ডাল তার মাথায় ভেঙে পড়ে। এতে তিনি মারা যান। এ ছাড়া ঝড়ে গাইবান্ধা জেলার অসংখ্য কাঁচা ঘরবাড়ি ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে কী পরিমাণ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা ইদ্রিশ আলী তাত্ক্ষণিকভাবে তা জানাতে পারেননি।