ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা কার্যালয়ে হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকদের হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রায় ৭২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। অধিকাংশ মালামাল লুটপাট ও আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় পৌর নাগরিকরা পৌরসভার সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন? গত সাত দিন ধরে বন্ধ রয়েছে পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা অপসারণ। এই অবস্থায় গতকাল শনিবার পৌর মেয়র মিসেস নায়ার কবির তার বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে পৌরসভার ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আবারও নাগরিক সেবা বিশেষ করে ময়লা-আবর্জনা অপসারণে তারা উদ্যোগ নিচ্ছেন। এই ঘটনায় পৌরসভার সচিব বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেছেন।
গত ২৮ মার্চ হেফাজতের হরতাল চলাকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা কার্যালয় ও পৌর মিলনায়তনে হামলা হয়। আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় সবকিছু। প্রথম তলা থেকে দ্বিতীয় তলা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। নিচের গ্যারেজেও আগুনে পুড়ে মালামাল ছাই হয়েছে। গ্যারেজে রাখা গাড়ি পুড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পৌরসভায় রক্ষিত বিভিন্ন নথি। পৌরবাসীর ১৫০ বছরের রেকর্ডপত্র ভস্মীভূত হয়েছে।
পৌরসভার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হেফাজত কর্মী-সমর্থদের ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে পৌরসভা কার্যালয়ের ২০টি স্টিলের আলমিরা, ২৫টি কাঠের আলমিরা, ১৮টি কম্পিউটার, পাঁচটি ল্যাপটপ, চারটি ফটোকপিয়ার মেশিন, ৩৪টি টেবিল, সাতটি সেক্রেটারিয়েট টেবিল, ১১৫টি চেয়ার ও পাঁচটি এসি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া পৌরসভার মালিকানাধীন ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তনটিও আগুনে পুড়িয়ে দেয় হেফাজতের কর্মী-সমর্থকরা। মেয়রের বাসভবনও হামলার শিকার হয়।