হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে নারীসহ রিসোর্টে অবরুদ্ধ করার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সোনারগাঁও। গতকাল রবিবার দিনভর হেফাজত কর্মীরা উপজেলার মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। মাদ্রাসা ছাত্ররা ছোট ছোট পিকআপ ভ্যানে মহড়া দিয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিকালে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। দুপুরে মামুনুল হকের পক্ষে সোনারগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করেন হেফাজত নেতা মুফতি ফয়সাল মাহমুদ হাবিবী। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোনারগাঁওয়ে বিজিবিসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৩ শতাধিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা গেছে, শনিবার মামুনুল হক তার ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’কে নিয়ে সোনারগাঁয়ে বেড়াতে এসে রয়েল রিসোর্টে অবস্থান নেন। এ খবরে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মামুনুল হককে আটক করে তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি ফেসবুকে ভাইরাল হলে সন্ধ্যায় হেফাজতের কয়েক শ কর্মী-সমর্থক রয়েল রিসোর্টে হামলা ও ভাঙচুর করে মামুনুল হককে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন। রাতে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নেমে আসেন। তাদের ইট-পাটকেল নিক্ষেপে পথচারী ও সংবাদকর্মীসহ ১৫ জন আহত হন। রাতে সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। ভাঙচুর চালানো হয়েছে যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম নান্নুর রেস্তোরাঁ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়সহ আরো কয়েকটি দোকানে। সংবাদ সংগ্রহের জন্য গেলে সংবাদকর্মীদেরও ধাওয়া করেন হেফাজতের উত্তেজিত কর্মী-সমর্থকরা।
এ ঘটনার পর গতকাল দুপুরে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল কায়সার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে বিকালে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদলসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন। দলীয় কার্যালয় ও নেতাকর্মীদের বাসায় হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় নিন্দা জানান তারা। জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু বলেন, আওয়ামী লীগ কার্যালয়, নেতাকর্মীর বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের ঘটনা খুবই দুঃখজনক।
রয়েল রিসোর্টের জিএম লাল মিয়া বলেন, মাওলানা মামুনুল হক ও ঐ নারী নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলে ওঠেন। কিন্তু যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হোটেলে এলে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। আর এর জেরে হেফাজতকর্মীরা হোটেলে ভাঙচুর চালান।
সোনারগাঁও থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, হেফাজত নেতা বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে ভাঙচুরের ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ করেননি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, হেফাজত নেতাকর্মীদের তাণ্ডব এড়াতে প্রশাসন সর্তক অবস্থানে রয়েছে।
হেফাজত নেতা মুফতি ফয়সাল মাহমুদ হাবিবী বলেন, মামুনুল হক সম্পূর্ণ নিয়মকানুন মেনে সেখানে অবস্থান করছিলেন। রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ তার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কতিপয় লোক মামুনুল হককে লাঞ্ছিত করে। অশ্লীল ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং তার গাড়ির চাবি ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।
ছাতকে হামলার ঘটনায় মামলা,
আসামি সহস াধিক
ছাতক (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, মামুনুল হকের আটকের খবরে সুনামগঞ্জের ছাতক থানায় হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা শনিবার রাতে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন। এ ঘটনায় গতকাল রবিবার বিকালে একটি মামলা হয়েছে। ছাতক থানার এসআই আনোয়ার মিয়া বাদী হয়ে ঘটনার সময় আটক ৯ জনসহ ৯৪ জনের নাম উল্লেখ করে এ মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত আরো ৯০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ নাজিম উদ্দিন মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আসামিদের গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।