বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের পেছনে শহরের জহুরুলনগর এলাকায় ছুরিকাঘাতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। রবিবার রাত সোয়া নয়টার দিকে কলেজের বিজ্ঞান ভবনের পেছনে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।
নিহত যুবকের নাম বিশু মিয়া। তার বাবার নাম জাহিদুল ইসলাম। বিশুর বাড়ি শিবগঞ্জ উপজেলায়। সে সরকারি আজিজুল হক কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। তিনি কলেজের পাশে একটি ছাত্রাবাসে থাকতেন।
এদিকে দুই দিন আগে ২ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে আজিজুল হক কলেজ চত্বরে বগুড়া জেলা পুলিশে কর্মরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) রবিউল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করে দুর্বৃত্তরা।
বিশু মিয়া বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে হিসাব বিজ্ঞানে মাস্টার্স পাশ করেন কয়েক বছর আগে। এরপর থেকেই কলেজের অদূরে জামিল নগর এলাকায় মেসে বসবাস করে চাকরির সন্ধান করছিলেন। তার ছোট বোন জাহানারা একই কলেজ থেকে লেখাপড়া শেষ করে মন্নুজান ছাত্রী নিবাসে বসবাস করেন।
তিনি জানান, তার বড় ভাই বিশু মিয়া রবিবার বিকেলে গ্রামের বাড়ি থেকে ৪ হাজার টাকা নিয়ে শহরে ফিরছিলেন। চারমাথা বাস টার্মিনালে নেমে জহুরুল নগর হয়ে পায়ে হেঁটে মেসে যাচ্ছিলেন। রাত সাড়ে ৮টায় ভাইকে ফোন দিলে জানান তিনি মুন হলের সামনে দিয়ে হেঁটে জামিল নগরের দিকে যাচ্ছেন।
আব্দুস সামাদ নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘কলেজ চত্বর দিয়ে হেঁটে যাওয়া কয়েক ব্যক্তি তাকে জানান কলেজ চত্বরে রাস্তার ওপর অন্ধকারে এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে আছে। এ খবর পেয়ে তিনি কয়েকজন ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেন। মরদেহের পার্শ্বে নিহতের একটি ব্যাগ ও প্যান্টের পকেটে দুটি মোবাইল ফোন ছিল।’
বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে বিশু মিয়া খুন হতে পারে। তার লাশ উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/এএএম