কয়েক মিনিটের গরম হাওয়ায় হাওরাঞ্চলে কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ

বিশেষজ্ঞ অভিমত ধানের হিট স্ট্রোক

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

হঠাত্ গরম বাতাস আর প্রচণ্ড ঝোড়ো বাতাসে নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলের উঠতি বোরো ধান সবুজ সোনালি রং থেকে পুড়ে সাদা হয়ে গেছে। কৃষি প্রশাসনের ভাষায় যাকে বলে ধানের হিট স্ট্রোক। এ ঘটনায় কৃষকের কান্নায় ভারী হয়ে উঠছে জেলার হাওরাঞ্চল খ্যাত খালিয়াজুরী, মদন ও মোহনগঞ্জ উপজেলা এলাকা। গত রবিবার সন্ধ্যায় কয়েক মিনিটের কালবৈশাখী ঝড় আর হঠাত্ প্রচণ্ড গরম বাতাসে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল সোমবার সরেজমিন দেখা যায়, ধানের শীষে ধান নেই, জমিতে শুধু গাছ দাঁড়িয়ে আছে। সকাল থেকে চলছে কৃষকের বিলাপ আর কান্না।

নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে খালিয়াজুরী উপজেলায় ১৯ হাজার ৯৫০ হেক্টর, মদনে ১৭ হাজার ৩৪০ হেক্টর ও মোহনগঞ্জ উপজেলায় ১৭ হাজার ৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান উত্পাদন হবে বলে আশা ছিল কৃষকের। বেশির ভাগ জমির ধানই পাকতে শুরু করেছে। আর কয়েক দিনের মধ্যে ব্রি আর ২৮ জাতের ধানের পাশাপাশি হাইব্রিড জাতের ধান কাটা শুরু হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে আগে লাগানো কিছু কিছু জমিতে ধান কাটা শুরু হয়েছে। কিন্তু গত রবিবার সন্ধ্যায় মাত্র কয়েক মিনিটের কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে গরম বাতাস যেন কৃষকের সব স্বপ্ন বিলীন করে দিল। এখন তাদের সম্বল শুধুই আহাজারি।

খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমরা ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ করছি। উপজেলা কৃষি অফিসার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, হাওরের প্রায় ৩০ ভাগ বোরো ফসল বিনষ্ট হয়েছে।

নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ হাবিবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়ে মদন, মোহনগঞ্জ ও কালিয়াজুরী উপজেলার বিভিন্ন হাওরাঞ্চল পরিদর্শন করছি। তিনি জানান, যেসব জমিতে এখনো ধান পাকেনি সেসব জমির ধান গরম বাতাসের কারণে চিটা হতে পারে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের চেষ্টা চলছে।