নেত্রকোনা প্রতিনিধি
করোনা রোগীর সংখ্যা দিনে দিনে বাড়লেও নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল করোনা রোগীর চিকিত্সায় সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত। ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদরের এই হাসপাতালে নেই সেন্ট্রাল অক্সিজেনের ব্যবস্থা। সিলিন্ডার অক্সিজেনের সরবরাহও অপ্রতুল। নেই আইসিইউ। রোগীর অবস্থা একটু খারাপ হলেই ময়মনসিংহে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সিভিল সার্জন ডা. সেলিম মিয়া বলেন, ‘করোনায় আক্রান্ত সাধারণ রোগীদের চিকিত্সার জন্য সব প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। তবে জটিল রোগী হলে তাকে উন্নত চিকিত্সার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।’ তিনি আরো বলেন, কোভিড রোগীদের পরিবহনের জন্য বিকল্প অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখনো এর কার্যক্রম চলছে ৫০ শয্যার জনবল দিয়ে। গত বছর করোনা পরিস্থিতির শুরুতে হাসপাতালটিতে ৩৬টি শয্যা নিয়ে করোনা ওয়ার্ড চালু করা হয়। কিন্তু সেখানে সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য অক্সিজেন-সহায়তা অপরিহার্য হলেও পুরো হাসপাতালে আজও সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা চালু করা হয়নি। সম্প্রতি হাসপাতালটির জন্য দুটি ভেন্টিলেটর মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে, কিন্তু অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ও সেন্ট্রাল অক্সিজেনের ব্যবস্থা না থাকায় সেগুলো চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। সেন্ট্রাল অক্সিজেনের ব্যবস্থা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক কাজী মো. আবদুর রহমান বলেন, তিনি হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন চালুর জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং চিঠি দিয়েছেন। দ্রুত কাজটি করা হবে বলে তিনি জানান। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ এস এম মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সেন্ট্রাল অক্সিজেন চালু করতে সময় লাগবে। অন্যদিকে ভেন্টিলেটর দুটি চালু করতেও কমপক্ষে তিন জন অ্যানেসথেসিওলজিস্ট এবং অন্তত এক জন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন। তিনি শ্বাসকষ্ট নিয়ে আসা রোগীদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে হাই ফ্লো অক্সিজেনের ব্যবস্থার চালু করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবলের সংকট
বানারীপাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, বানারীপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সকসহ জনবলের সংকটের কারণে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছর বানারীপাড়ায় করোনা মহামারির সময় উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যে জনবল ছিল, বর্তমানে তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। বর্তমানে মাত্র তিন জন চিকিত্সক দিয়ে হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে। আক্রান্ত রোগীদের জন্য অত্যন্ত জরুরি হাই ফ্লো অক্সিজেনের ব্যবস্থা নেই। সংকটাপন্ন রোগী পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে বা ঢাকায়। এ বিষয়ে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার এস এম কবির হাসান বলেন, কাগজে-কলমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হলেও বাস্তবে পুরোনো ৩১ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনবল নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী ৩১ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন চিকিত্সক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে সেখানে তিনিসহ মাত্র তিন জন চিকিত্সক রয়েছেন। তিনি বলেন, ইউনিয়ন সাব সেন্টার থেকে সাত জনকে ডেপুটেশনে নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু সহায়ক লোকবলেরও অভাব রয়েছে। সব মিলিয়ে রোগীদের চিকিত্সাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।