নাগরপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে মাটি পরিবহনে ব্যবহার করা কয়েক শ ট্রলির বেপরোয়া চলাচলে ভোগান্তি পোহাচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা। এসব গাড়ির সড়কে চলাচলে নেই কোনো বৈধ কাগজপত্র, এমনকি চালকদের লাইসেন্সও থাকে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চাষাবাদের ট্রাক্টরের হাল খুলে ইঞ্জিনসহ সামনের অংশটির পেছনে অতিরিক্ত চাকা ও ট্রলি সংযোজন করে ট্রাক হিসেবে ব্যবহার করছে একশ্রেণির মুনাফালোভী। এসব গাড়িতে অতিরিক্ত মালামাল পরিবহন করায় গ্রামীণ সড়কগুলো ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নাগরপুর উপজেলায় অন্তত ৩৫০ থেকে ৪০০টি এ ধরনের ট্রলি গাড়ি রয়েছে। ছয় চাকার এসব যান সড়কে বেপরোয়াভাবে চালাচলের কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। মামুদনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা সাইফুল মিয়া বলেন, এই ট্রলি দিয়ে সাধারণত মাটি পরিবহন বেশি করা হয়ে থাকে। গাড়ির মালিকেরা বেশির ভাগই প্রভাবশালী। তাই এদের নিষেধ করলেও মানে না। মানুষের জানমাল ও সড়ক অবকাঠামো ঠিক রাখতে চাইলে দ্রুতই এই যান চলাচল বন্ধ করা উচিত।
মোকনা ইউনিয়নের বাসিন্দা আজাদ, ধুবড়িয়া গ্রামের কালাম, পাভেল, বাবুসহ কয়েক জন বলেন, পাকা রাস্তাগুলো নষ্ট হচ্ছে মাটি পরিবহনের ট্রলির নিয়ন্ত্রণহীন চলাচলের কারণে। দিনে ও রাতে ২৪ ঘণ্টাই গাড়িগুলো চলাচল করে থাকে। ধুলাবালুর কারণে বাইরে থাকা দায়। আব্দুর রশিদ নামে একজন ট্রলিচালক বলেন, ‘আমি বেতনভুক্ত চালক। আমার নিজের গাড়ি নেই, কোনো রেজিস্ট্রেশনও নেই। মানুষ তাদের মাটি, গাছসহ বিভিন্ন মালামাল আনা-নেওয়ার জন্য আমাদের কাছে আসে।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক জন গাড়ির মালিক বলেন, প্রত্যন্ত উপজেলায় এই পরিবহন না থাকলে আমাদের পণ্য আনা-নেওয়া কষ্টকর হতো।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ঝান্ডা চাকলাদার বলেন, যারা এ ধরনের গাড়ি চালায়, তাদের অনেকেই অনভিজ্ঞ ও অপরিপক্ব। এদের মধ্যে ১০-১৫ বছরের কিশোরও রয়েছে। তাদের কোনো প্রশিক্ষণ বা লাইসেন্স থাকে না। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নাগরপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, এ ধরনের অনুমোদনহীন যানবাহন গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামোর জন্য খুবই ক্ষতিকর। উপজেলা প্রশাসন থেকে এ ধরনের যানবাহন সীমিত করা বা চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে।
সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক মো. আবু নাঈম বলেন, ‘এ ধরনের যানবাহনের কোনো রুট পারমিট নেই। চালকদের অনেকেই অনভিজ্ঞ এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন হয়ে থাকে। আমরা বিভিন্ন সময়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এদের গাড়িগুলো জব্দ করে জরিমানা করে থাকি।’
নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিফাত-ই-জাহান জানান, আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কোনো ট্রলি চলতে পারবে না। বালু পরিবহনের সময় ত্রিপল বা পর্দা ব্যবহার করতে হবে এবং হাইওয়েসহ অন্যান্য রাস্তায় গতিসীমা সর্বোচ্চ ৪০-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।