দেবীদ্বারে ইউপি নির্বাচনে আগাম প্রচারণা নিয়ে বিরোধের জের ধরে সম্ভাব্য নারী চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহানাজ মোস্তফার বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি তার স্বামীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বর্তমান চেয়ারম্যান খন্দকার এম এ সালামের পুত্র ফখরুল ইসলাম ও তার কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ফতেহাবাদ ইউনিয়নের সাইচাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ঐ নারী প্রার্থীর স্বামী মো. গোলাম মোস্তফাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে চেয়ারম্যানপুত্র। স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় গোলাম মোস্তফাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে দেবীদ্বার থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা সাইচাপাড়া গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ফখরুল ও বিপ্লব, একই গ্রামের সুমন, আমির হোসেনের ছেলে জুয়েল, কালা মিয়ার নাতি আলমগীর, সামসু ডাক্তারের ছেলে ইমরান দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গোলাম মোস্তফার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এছাড়াও তার ব্যক্তিগত অফিস ও তার বাড়ির বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় গোলাম মোস্তফা বাঁধা দিলে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়।
আহত গোলাম মোস্তফা বলেন, আমার স্ত্রী শাহনাজ মোস্তফা চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় চেয়ারম্যান খন্দকার এম এ সালাম ও তার পুত্র ফখরুলসহ তার অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে আমাকে হত্যার পরিকল্পনা করে আসছে। এর আগেও আমার ওপর হামলা চালায় তারা। মঙ্গলবার দুপুরে খাবারের অবস্থায় দিনে দুপুরে সন্ত্রাসী ফখরুল তার লোকজন নিয়ে এসে আমাদের বাড়ির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে আমাকে কুপিয়ে জখম করে। এছাড়াও আমার ছেলে আল মামুন, পুত্রবধূ রোকেয়া ইসলাম এবং ম্যানেজার ফারুক ও শামীমকে পিটিয়ে আহত করে।
শাহনাজ মোস্তফা বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান আমার পরিবারের ওপর বিভিন্ন নির্যাতন চালিয়ে আসছে। তিনি তার পুত্র ও সন্ত্রাসী বাহিনীকে আমাদের পেছনে লাগিয়ে দেন। আমি এলাকাবাসীর অনুরোধে নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে প্রচারণা শুরু করি। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার স্বামীর ওপর কয়েক দফায় হামলা চালায়।
চেয়ারম্যান খন্দকার এম এ সালাম বলেন, আমার ছেলেসহ তার কয়েক জন সহযোগী নিয়ে গোলাম মোস্তফার বাড়ির সামনে দিয়ে আসার সময় মোস্তফার ছেলেরা আমার ছেলের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় আমার ছেলেসহ দুই জন আহত হয়েছেন।
দেবীদ্বার থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।