বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য বাড়াতে নীতিসহায়তায় গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে দুই দিক থেকে পর্যাপ্ত নীতিসহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পাঠানো ভিডিও বার্তায় দুই দেশের চলমান বাণিজ্য সম্পর্ক তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে শিল্পের কাঁচামাল ও ভোক্তাসামগ্রী যেমন—তুলা, সয়াবিন ও গম রপ্তানি করতে যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো শুল্ক দিতে হয় না। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরো সম্প্রসারণের জন্য উভয় দেশ থেকে পর্যাপ্ত নীতিসহায়তা দেওয়া জরুরি। বৈদেশিক সহায়তার ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা অনেক কমলেও উলটো দিকে লাখ লাখ যুবকের কর্মসংস্থানের জন্য প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের যে বিশেষ প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা ও বিনিয়োগের বাংলাদেশ ‘আশাব্যঞ্জক গন্তব্য’ হিসেবে তুলে ধরে তার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, টেকসই অর্থনৈতিক পবৃদ্ধি, দ্রুত সম্প্রসারণশীল দেশীয় বাজার ও ৪০০ কোটি লোকের বিশাল আঞ্চলিক বাজারের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সংযোগই বাংলাদেশকে আকর্ষণীয় করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, “বিদেশি বিনিয়োগ সহজ করতে বাংলাদেশ ক্রমাগতভাবে ভৌত, আইনি ও আর্থিক অবকাঠামোর উন্নতিসাধন করছে। দ্রুত শিল্পায়নের জন্য আমার সরকার ১০০টি ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠা করছে। শিল্পকারখানা গড়তে আমেরিকার কোম্পানিগুলোর জন্য নিবেদিত একটি ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ আমরা তৈরি করে দিচ্ছি।’ যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পথে যাত্রার শক্তিশালী অংশীদার হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি আমাদের রপ্তানির বৃহত্তম গন্তব্য, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের বৃহত্তম উত্স, দীর্ঘকালের উন্নয়ন অংশীদার এবং প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ উত্স।’

‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ সরকারের ‘রূপকল্প ২০২১’-এর যে অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়েছে, তার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতার উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাড়াতে ‘প্রযুক্তি ব্যবহারে সক্ষম’ আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য তার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কেও ধন্যবাদ জানান তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ৬০টিরও বেশি দেশে ১০০ কোটি ডলারের বেশি আইসিটি পণ্য রপ্তানি করে, যেখানে শীর্ষ গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র।

বক্তব্যের শুরুতে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমি আনন্দিত। এই অনুষ্ঠান এমন সময়ে হচ্ছে, যখন আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশতম বার্ষিকী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন করছি। বাংলাদেশের অর্থনীতির শক্তি এখন বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি দুর্দান্ত স্থিতিস্থাপকতা প্রদর্শন করেছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের উদ্বোধন বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্পর্কে মার্কিন ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান আগ্রহকে প্রতিফলিত করে। আমার সরকার আগামী দিনগুলোতে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের কার্যক্রমকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে।