রোজ সকালে ঘাসের ওপর দিয়ে ছোট্ট সফর করা নিয়মিত অভ্যাস। এলাকার আন্টি-আংকেলরা বের হন। ডায়াবেটিস কিংবা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডাক্তারের পরামর্শে হাঁটেন তাঁরা। আমরা হাঁটি শখে। সূর্য ওঠার অপরূপ দৃশ্য, পাখির ঘুমভাঙানি কিচিরমিচির, দূর থেকে ছুটে আসা মন মাতানো শীতল হাওয়া—অসম্ভব সুন্দর এ দৃশ্যগুলো উপভোগ না করে যে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে সে নিশ্চয় দারুণ কিছু মিস করছে।
ভোরের মিষ্টি হাওয়ার তৃপ্তি মাখা অনুভবে হূদয় জুড়াতে জুড়াতে, বহু ধুলোমাখা পথ পাড়ি দিয়ে আজ এসেছি শীতলক্ষ্যার পাড়ে। নদী আমার অনেক পছন্দ। নদীর পানিতে কেমন যেন এক ধরনের আবেগ মেশানো। প্রকৃতির সাক্ষাতে খালি পেটের ক্ষুধা একেবারেই নিঃশেষ হয়ে যায়।
শ্রমিকেরা কাজ করছে। এখানে জাফলংয়ের পাথর এনে ভাঙা হয়। খুউব ভোরে পাথর বোঝাই মাঝারি ট্রলারগুলো এসে ঘাটে ভেড়ে। ছোট ছোট বাঁশের সাঁকো এখানকার দৃশ্যকে আরো চমত্কার করে তুলেছে। কেউ কেউ টং দোকানগুলোতে বসে চায়ের কাপে পাউরুটি ভেজাচ্ছে। সূর্য একটু একটু করে উঁকি দিচ্ছে। নৌকায় অনেকে কর্মস্থলের দিকে ছুটে চলেছে—এক হাতে টিফিন কেরিয়ার অন্য হাতে কোদাল। দোয়েল পাখিগুলো উড়ে চলেছে কোথাও। মেহগনি গাছের ডালে বসে কোকিল কুহুকুহু ডাকছে। সবুজ ঘাসের বুকে ঘাসফড়িংগুলো খেলা করছে। নদীর স্বচ্ছ পানিতে রাজহাঁসেরা সাঁতরাচ্ছে। নদীর পানিতে পা ভিজিয়ে বসে আছি। মাঝে মাঝে পানির জোয়ারে দুচার ফোঁটা গায়ে এসে পড়ছে। দারুণ এক মুহূর্ত!
যান্ত্রিক শহরের জীবন আসলেই নিরানন্দময়। নদীর পাড়ের জীবন কত সুন্দর! ভোরের সাক্ষাত্ পাওয়া যায়, শোনা যায় চেনা-অচেনা পাখির কোলাহল, নদীর পানির প্রবাহ চোখ জুড়ায়, টং দোকানের কাপে মুখ লাগিয়ে সকাল শুরু...
আবু মো. ফজলে রোহান