লকডাউনেও নারায়ণগঞ্জে মানা হাচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ

করোনা সংক্রমণ দিন দিন বাড়তে থাকায় সরকার সাত দিনের লকডাউন ঘোষণা করে। লকডাউনের দুই দিন পার হলেও নারায়ণগঞ্জের জীবনযাত্রা ছিল অন্য দিনের মতো স্বাভাবিক। গত দুই দিন নগরীতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার পাশাপাশি দোকানপাটসহ সবকিছুই খোলা ছিল। এমনকি নগরীর যানজটও অন্য দিনের মতো ছিল স্বাভাবিক। সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন সচেতনতা লক্ষ্য করা যায়নি। প্রশাসনকেও তেমন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।

যদিও গত সোমবার রাতে জেলা প্রশাসক মোতাইন বিল্লাহ ও পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলেছিলেন, গত মঙ্গলবার থেকে লকডাউন কঠোরভাবে আরোপ করা হবে। কিন্তু গতকাল বুধবারও ছিল আগেরই অবস্থা। মঙ্গলবার মধ্যরাতে শহরের প্রাণকেন্দ্রে খাবারের দোকান খোলা ছিল আর অনেককে দেখা যায় আড্ডায় ব্যস্ত থাকতে। অথচ গত বছর লকডাউন না দিয়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পরও বেশ কিছুদিন নগরবাসী ঘরবন্দি ছিল। এবার সরাসরি লকডাউন ঘোষণার পরও নারায়ণগঞ্জের মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি তেমন একটা মানতে দেখা যায়নি।

সন্ধ্যা ৬টার পর জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে বাড়ির বাইরে বের হতে দেওয়া হবে না এমন নির্দেশ জারির পরও লকডাউনের দুই দিনে সন্ধ্যার পরও সবকিছুই অনেকটা স্বাভাবিক ছিল। গতকাল বুধবারও সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে নগরী জুড়ে রিকশা, অটোবাইকসহ সাধারণ মানুষের চলাচল আগের মতোই স্বাভাবিক রয়েছে। কিছু কিছু সচেতন মানুষকে মাস্ক পড়ে চলাচল করতে দেখা গেলেও অনেকে আবার মাস্ক ছাড়াই চলাচল করছে। সকালে ৫ নম্বর মাছ ঘাটে ছিল ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। সেখানেও মানা হয়নি স্বাস্থ্যবিধি। মাছ কিনতে আসা অনেক ক্রেতাকে মাস্ক ছাড়াই বাজারে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। এদিকে দিগুবাবুর বাজারেও ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

অন্যদিকে শহরের কালীরবাজারে বৃহত্ খুচরা বিপণন কেন্দ্র ফ্রেন্ড মার্কেটের দোকানপাট বন্ধ দেখা গেলেও নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলসংলগ্ন রেলওয়ে সুপার মার্কেটের বেশকিছু দোকান খুলতে দেখা গেছে। খোলা ছিল শহরের অধিকাংশ খাবার দোকান। খাবার দোকানে বসে খাওয়া নিষেধ থাকলেও গাদাগাদি করে বসে অনেক দোকানেই খাবার খেতে দেখা গেছে।