রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক কথাবার্তা এবং রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে কটাক্ষ করার অভিযোগে ‘শিশুবক্তা’ হিসেবে পরিচিত মাওলানা রফিকুল ইসলামকে আটক করেছে র্যাব। বুধবার ভোরে নেত্রকোনার পশ্চিম বিলাশপুর গ্রামের সাওতুল হেরা মাদ্রাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। মাওলানা রফিকুল ইসলাম ঐ মাদ্রাসার পরিচালক। র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্যের জন্য তাকে আমরা নেত্রকোনা থেকে আটক করেছি। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন। মামলা দায়ের হলে তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে। এর আগে, গত ২৫ মার্চ মতিঝিল এলাকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের বিরোধিতা করে মিছিল ও ভাঙচুরের সময় রফিকুলকে আটক করে পুলিশ। তবে সেদিন আটকের কয়েক ঘণ্টা পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। রফিকুল ইসলাম রাজধানীর জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেন। শারীরিক আকৃতিতে ছোট হওয়ায় সবাই তাকে ‘শিশুবক্তা’ বলেন এবং এ হিসেবেই তিনি পরিচিতি পান। কণ্ঠ, শারীরিক গঠন ও মুখাবয়াবের কারণে তাকে কম বয়সি ছেলেদের মতো মনে হলেও তার বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে বলে সমাজে প্রচলিত রয়েছে। সাওতুল হেরা মাদ্রাসার পরিচালক রফিকুল ইসলাম ২০ দলীয় জোটভুক্ত জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও রাবেতাতুল ওয়ায়েজিনের সঙ্গে যুক্ত আছেন।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, তার আসল বয়স আমাদের জানা নেই। তবে তিনি বয়সে শিশু নন, তা আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি। ইউটিউবে তার কয়েকটি ওয়াজের ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি তার নামের সঙ্গে ‘শিশু বক্তা’ যোগ করার প্রতিবাদ করেন এবং নিজেকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দাবি করেন।
মুক্তি দাবি হেফাজতের
রফিকুল ইসলামকে আটকের পর তার মুক্তি দাবি করে বিবৃতি দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক। বিবৃতিতে বলা হয়, রফিকুল ইসলাম তার ওয়াজের মাধ্যমে দেশের প্রতি ভালোবাসার তাগিদে সাধারণ মানুষকে ‘অন্যায়, জুলুম ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে জাগ্রত হওয়ার আহ্বান করেন। বিবৃতিতে রফিকুল ইসলামের মুক্তি দাবি করে অভিযোগ তোলা হয় যে দেশের প্রচলিত আইন অনুসরণ করে তাকে আইনের আওতায় আনা হয়নি।