ভারত থেকে আরো ১ লাখ টন চাল আমদানির অনুমোদন

রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে জি টু জি পদ্ধতিতে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান হতে ১ লাখ টন নন-বাসমতি সেদ্ধ চাল সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। গতকাল বুধবার ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভা শেষে আয়োজিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী জানান, ক্রয় কমিটির বৈঠকে মোট সাতটি প্রস্তাবের অনুমোদন হয়েছে।

নতুন করে ১ লাখ টন চাল আমদানির নীতিগত অনুমোদন ছাড়াও ক্রয় কমিটির বৈঠকে খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক ভারতীয় প্রতিষ্ঠান পিকে এগ্রিলিংক প্রাইভেট লি.-এর নিকট থেকে ৫০ হাজার টন নন-বাসমতি সেদ্ধ চাল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত চাল ও গম কেনা হবে না। আমরা বেশি চাল কিনব না, বেশি কিনলে আমাদের কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের যেন ক্ষতি না হয় আমরা সবসময় সেদিকে লক্ষ্য রাখছি। করোনা মহামারি প্রতিরোধে জনগণের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই লকডাউন দেওয়া হয়েছে। তবে এটি আমার মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়। যাদের বিষয় তারা এদিকে খেয়াল রাখছেন। করোনা মোকাবিলায় প্রণোদনা প্যাকেজের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রণোদনা প্যাকেজগুলো আমাদের মন্ত্রণালয় থেকেই ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু সবগুলো প্যাকেজই প্রধানমন্ত্রীর ধারণা ও পরিকল্পনায় হয়েছে। তিনিই সেসব করে দিয়েছেন। আমরা শুধু তার হয়ে এগুলো বাস্তবায়ন করছি।

বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-এর প্রবৃদ্ধির পূর্ভাবাস নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তারা কতগুলো নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়ে থাকে। তারা ভালো বলেছেন, ভালো পূর্বাভাস দিয়েছেন। আমরা ভালো বোধ করছি।

সভা শেষে অনলাইনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. শাহিদা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃক তৃতীয় সবামেরিন ক্যাবল স্থাপন সংশ্লিষ্ট অংশের ক্রয় কাজ রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে জনস্বার্থে নিজস্ব ক্রয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় অনুমোদিত প্রস্তাবসমূহের মধ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্তৃক ‘শরীয়তপুর (মনোহর বাজার) ইব্রাহিমপুর ফেরিঘাট পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্পের দুটি পূর্ত কাজের পৃথক ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আশুগঞ্জ নদীবন্দর-সরাইল-ধরখার আখাউড়া স্থলবন্দর মহাসড়ককে চার লেনে জাতীয় মহাসড়কে উন্নীতকরণ প্রকল্পের একটি প্যাকেজের পূর্ত কাজ ভারতীয় একটি প্রতিষ্ঠান হতে ৭৮৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকায় ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সভায় পেট্রোবাংলা কর্তৃক স্পট মার্কেট হতে ১১তম এলএনজি সুইজারল্যান্ডের একটি প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি সর্বমোট ২৪৩ কোটি ৩০ লাখ টাকায় ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সভায় সেতু কর্তৃপক্ষ কর্তৃক চাঁদপুর ও শরীয়তপুর জেলার মধ্যবর্তী মেঘনা নদীর ওপর শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়কে ও গজারিয়া মুন্সীগঞ্জ সড়কে সেতু নির্মাণে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা এবং মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে ২৪৩ কোটি টাকায় নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। এছাড়া সভায় গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ‘খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের ডিব্লিউ-০১ প্যাকেজের পূর্ত কাজ বাতিলপূর্বক পুনর্মূল্যায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।