রহমতের বার্তা নিয়ে আসছে মাহে রমজান

 

রহমতের বার্তা নিয়ে আসছে মাহে রমজান। মুসলিম উম্মাহর জন্য বছরের শ্রেষ্ঠ সময় রমজান মাস। মহিমান্বিত এ মাসে ইবাদতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর দরবার থেকে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত অর্জন করা যায়। হাদিস শরিফে এই মাসকে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রথম ১০ দিন রহমত, তারপর মাগফিরাত ও শেষের ১০ দিন নাজাত।

রমজান মাসের প্রথম দশক রহমতের। রহমত আগমনের সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ মুমিনের হূদয়ে রহমত ঢেলে দেন। ফলে প্রিয় বান্দারা রমজান এলেই টুপি-পাঞ্জাবি পরিধান করে, হাতে সুন্দর জায়নামাজ নিয়ে মসজিদে ইবাদতে বসে যায়। অন্য সময়ে মাথায় টুপি দেখতে না পেলেও রহমতের কারণে রমজানের সময় মুসল্লিদের মাথায় টুপি পরতে ও ইফতারের পূর্বে মিসওয়াক করতে দেখা যায়।

রমজান মাসকে ইবাদতের বসন্তকালও বলা হয়। রমজানের আগমনে সব কিছু মুখরিত হয় নতুন জীবনের জয়গানে। শয়তানের দৌরাত্ম্য থাকে না। আকাশ বেয়ে নেমে আসে রহমতের বর্ষা। আল্লাহ বেহেশতের দরজা খুলে দেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, রসুল (স) ইরশাদ করেন, ‘যখন রমজান মাস আসে আসমানসমূহ খুলে দেওয়া হয়।’ আরেক হাদিসে এসেছে, ‘রমজান মাসের চাঁদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে জান্নাতের দরজা খোলা ও জাহান্নামের দরজা বন্ধ হয়ে যায়।’ (তিরমিজি)। রোজাদার ব্যক্তিদের আল্লাহ তায়ালা ভালোবাসেন। স্বীয় রহমতের চোখে তাদের দেখেন। এ জন্য আল্লাহ তায়ালা রোজাদার ব্যক্তিদের পুরস্কার নিজে দেবেন। এর চেয়ে রহমত আর আমাদের জন্য কী হতে পারে? স্বীয় মালিকের হাত থেকে পুরস্কার পাওয়ার আনন্দটা অন্য রকম। হাদিসে কুদসিতে এসেছে, ‘বনি আদমের সব আমলের বিনিময় ১০ গুণ হতে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বেশি হয়ে থাকে। কিন্তু আল্লাহ বলেন, রোজা এর ব্যতিক্রম। কেননা রোজা আমার জন্য। আর এর বিনিময় আমিই দান করব।’ (বুখারি ও মুসলিম)

রমজানের রহমত পেতে হলে বান্দাকে অবশ্যই কুপ্রবৃত্তি ত্যাগ করে আত্মশুদ্ধি লাভ করতে হবে। সত্ গুণাবলি অর্জন করতে হবে। পরস্পরের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা তৈরি করা থেকে মুক্ত থাকতে হবে। রোজা রেখে দুর্নীতি করা যাবে না। কালোবাজারি করা যাবে না। মুনাফেকি করা যাবে না। জুলুম-নির্যাতন করা যাবে না। ধূমপান, মদ্যপান করলে রহমত পাওয়া যাবে না। অসত্ চিন্তা থেকে নিজকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কাউকে ফাঁকি দেওয়া যাবে না। অবশ্যই রোজা রেখে মিথ্যা বা গিবত করলে রহমতের আশা কখনো করা যাবে না। হজরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুল (স) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা ও তদানুযায়ী আমল করা বর্জন করেনি, তার এ পানাহার পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ (বুখারি)

সর্বোপরি আমাদের সবার উচিত রহমতের আশায় আগত মাহে রমজানের সব রোজা পালন করা। আল্লাহর রহমত পেয়ে মাগফিরাতের দশকে নিজের ও মুসলিম উম্মাহর জন্য ক্ষমা চাওয়া। রোজা পালন করার মধ্যে রয়েছে সফলতা। কেননা বেহেশতের মধ্যে আটটি দরজা রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো রাইয়ান। রসুল (স) বলেন, ‘রাইয়ান নামক দরজা দিয়ে রোজাদার ব্যতীত অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।’ (বুখারি ও মুসলিম)

lলেখক :গভর্নর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ ও অধ্যক্ষ, ঢাকা নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসা