মাহে রমজানের ৩০ মাসায়েল

 

১ নম্বর মাসায়েল—রোজা : পবিত্র মাহে রামাদানের রোজা পালন করা ইসলাম ধর্মের তৃতীয় ফরজ। কেউ যদি এ ফরজ অস্বীকার বা অবিশ্বাস করে, সে মুসলমান থাকে না। আর কেউ যদি তা পালন না করে তা হলে সে কঠোর পাপী বা ‘ফাসিক’ বলে গণ্য হয়। ২ নম্বর মাসায়েল—রোজার নিয়ত : নিয়ত মানে মনের ইচ্ছা; মুখে কিছু বলুক বা না বলুক। মনের ইচ্ছার পাশাপাশি মুখেও তা বলে নেওয়া ভালো; কিন্তু মুখে কিছু না বললেও নিয়ত হয়ে যায়। রোজার বেলায় নিয়ত থাকা শর্ত। যদি মনে মনে রোজার নিয়ত না থাকে অথচ সারা দিন উপবাস থাকেন; তাতে রোজা হবে না। মাহে রামাদানের রোজার নিয়ত রাতের মধ্যেই করে নেওয়া উত্তম; যদি রাতে না করে থাকে, সেক্ষেত্রে দিনের  বেলায়ও যদি সূর্য ঢলে পড়ার দেড় ঘণ্টা পূর্বের যে কোনো সময় করে নেয়; তাতেও রোজা শুদ্ধ হয়ে যাবে। তবে শর্ত হলো, কোনো কিছু যেন পানাহার না করে।

৩ নম্বর মাসায়েল—যেসব কারণে রোজা নষ্ট হয়ে যায় : (১) কানে ও নাকে ওষুধ ঢেলে দেওয়া। (২) ইচ্ছাকৃত মুখ ভরে বমি করা। (৩) কুলি করার সময় গলার ভেতরে পানি চলে যাওয়া। (৪) স্ত্রীর সঙ্গে মিলনে বীর্যপাত হয়ে যাওয়া। (৫) এমন কোনো বস্তু গিলে ফেলা যা সাধারণত খাওয়া হয় না। যেমন—কাঠ, লোহা, কাঁচা গম ইত্যাদি। (৬) লোবান বা উদকাষ্ঠ ইত্যাদির ধোঁয়া ইচ্ছাকৃতভাবে নাক দিয়ে বা কণ্ঠনালির ভেতরে টেনে নেওয়া; বিড়ি, সিগারেট ও হুক্কা পান করারও একই বিধান। (৭) ভুলে পানাহার করার পর এমনটি ধারণা করা যে, রোজা নষ্ট হয়ে গেছে; এরপর পুনঃ পানাহার করা। (৮) রাত বাকি আছে মনে করে সুবেহ সাদেকের পর পানাহার করা। (৯) সূর্য ডুবে গেছে মনে করে সূর্যাস্তের পূর্বে ইফতার করে নেওয়া। উল্লেখ্য, এসব ক্ষেত্রে রোজা ভেঙে যায় এবং শুধু রোজা কাজা করতে হয়; কাফফারা আবশ্যক হয় না।

(১০) ভুলে নয়, জেনে-বুঝে সুস্থ-সবল অবস্থায়, কোনো ওজর-সমস্যা ব্যতীত দিনের বেলায় পানাহার করলে অথবা স্ত্রী মিলন হলে, সেই রোজার কাজা করতে হয় এবং কাফফারাও প্রদান করতে হয়। ‘কাফফারা’ হলো, একটি ক্রীতদাস মুক্তকরণ; অথবা একাধারে ৬০টি রোজা পালন করা। আর যদি রোজা রাখার শক্তিসামর্থ্য না থাকে, সেক্ষেত্রে ৬০ জন মিসকিনকে দুই বেলা পেটপুরে খাবার খাওয়াতে হবে। এ যুগে যেহেতু শরিয়তসম্মত গোলাম বা ক্রীতদাস বাস্তবে নেই, সে কারণে কাফফারার ক্ষেত্রে শেষোক্ত দুইটির যে কোনো একটি পালন করতে হবে। (চলবে)

lলেখক : মুফতি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ঢাকা