তানভীর তারেক
করোনার ভয়াল থাবায় প্রায় স্তব্ধ এখন গোটা শোবিজ অঙ্গন। অনেকেই ঈদের নতুন প্রডাকশনের কথা ভাবলেও তা সঙ্কুচিত করে আনছেন। বিশেষ করে নাটকের শুটিংসেট থেকে একাধিক তারকার করোনা সংক্রমণের খবরে এ বিষয়ে নানা বিধি-নিষেধ নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। জীবন আগে না জীবিকা? সেই প্রশ্নের ঘোরে এখন এই শিল্পাঙ্গন! এর ভেতরে অভিনয়শিল্পী সংঘের কার্যনিবাহী সদস্যরাই স্ব স্ব স্ট্যাটাসে জানিয়েছিলেন যে, লকডাউন ঘোষিত গত ৫ এপ্রিল থেকে সকল প্রকার শুটিং বন্ধ। কিন্তু আদতে সীমিত আকারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুটিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অভিনয়শিল্পী সংঘের সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিম গণমাধ্যমে বলেন, ‘সরকারি প্রজ্ঞাপনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিল্পকারখানা, ব্যাংক, বিমা ও জরুরি কিছু সেবা চালু থাকবে। তাই শুটিংও চলতে পারে। আমরা কাউকে শুটিং করতে উত্সাহিত করছি না। জীবনের প্রয়োজনে আমাদের ঘরে থাকা উচিত। তবে কেউ চাইলে শুটিং চালিয়ে যেতে পারেন।’
উল্লেখ্য, করোনার প্রথম ধাপে শুটিং বাতিল, অনেক ধারাবাহিক ও সিঙ্গল নাটকের প্রডাকশন হঠাত্ করেই বন্ধ হয়ে গেলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেকআপ আর্টিস্ট, সেট-লাইট-সাউন্ডের কারিগরদের ঢাকা ছাড়তে হয়েছিল। যা হয়তো গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়নি। কিন্তু শ্রমজীবী এই শোবিজকর্মীদের হাহাকারে ভারি হয়েছিল পুরো ঢাকার আকাশ। শিল্পী সংগঠনগুলো সাহায্যের হাত বাড়ালেও জনপ্রিয় বা উচ্চ পারিশ্রমিক প্রাপ্ত তারকাদের কারো কারো নীরবতা ছিল অবাক করার মতো! মূলত এ মুহূর্তে শুটিংয়ের ব্যস্ততা বাড়ে সকলের। প্রায় সব তারকাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন টিভি ও অনলাইন প্লাটফর্মের জন্য নাটক-টেলিছবিসহ নানারকম নির্মাণের শুটিংয়ে। কিছু কিছু প্রডাকশন ইউনিট হয়তো বছরের এই দু-তিনটে বড় উত্সবকে কেন্দ্র করে টিকে থাকে। অথচ করোনার এই তৃতীয় ঢেউয়ে নাট্য নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও বিভিন্ন কলাকুশলী মিলিয়ে প্রায় শতাধিক কর্মী বর্তমানে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এর ভেতরে সকলেই গণমাধ্যমে প্রকাশ না করার শর্তেই নিজেদের ভেতরে আইসোলেশন বা হাসপাতালে চিকিত্সায় রয়েছেন। এদিকে সম্মিলিত সংগঠনগুলোর নীতিমালায় আগের মতো ১২ ঘণ্টা শুটিং করা যাবে না। দেশের এ পরিস্থিতিতে ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে শুটিং। সেইসঙ্গে ছোটপর্দার ৪টি সংগঠনের বেঁধে দেওয়া কঠোর নীতিমালা অবশ্যই মানতে হবে। একইসঙ্গে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় শিগগিরই শুটিং বন্ধের ঘোষণাও আসতে পারে বলে জানান অভিনেতাদের নেতা সেলিম। এই দ্বিধান্বিত পরিস্থিতিতে ডিরেক্টরস গিল্ডের সভাপতি সালাউদ্দীন লাভলু গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সরাসরি শুটিং বন্ধ করতে আমরা বলতে পারবো না। বন্ধ বললে সহকর্মীদের দায়-দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে। এটা আমাদের দ্বারা সম্ভব নয়। আবার শুটিং করো, এটাও বলতে পারছি না। তখন সরকার আমাদের ধরবে। আমরা শুটিংয়ের পক্ষেও নই, বিপক্ষেও নই।’
এই প্রতিবেদন লেখা অবধি শোবিজ অঙ্গনের একাধিক তারকা আক্রান্ত। প্রতিদিনই চলচ্চিত্র, নাটক বা সংগীতকর্মীদের এই আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে।