করোনা সংক্রমণের হার প্রতিদিন হুহু করে বাড়ছে। তারপরও মানুষ সতর্ক হচ্ছে না। মানুষজনের চলাচল, জীবনাচরণের ধরন দেখলে মনে হবে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। মাস্ক পরা লোকের সংখ্যা এখন অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিশ্বের খ্যাতিমান স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মহামারি করোনা থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানা অর্থাত্ লোক সমাগম আছে এমন স্থান এড়িয়ে চলা কিংবা অবস্থান সংকুচিত রাখা, সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বিঘ্নিত হয় এমন স্থান পরিহার, যথাযথভাবে মাস্ক পরিধান প্রভৃতি বিষয়ের ওপর অত্যধিক গুরুত্ব আরোপ করেছেন। অথচ আমাদের দেশের বাস্তবতায় যে বিষয়টি বিশেষভাবে লক্ষ করা যাচ্ছে—তা হলো কোনো অবস্থাতেই স্বাস্থ্যবিধি না মানার উদাসীনতা। চলছে বইমেলা, কোর্ট, হাট-বাজার, বাংলাদেশ গেমস, বিয়ের অনুষ্ঠান সেখানে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার কোনো বালাই নেই। এমনকি লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণে বিসিএস ও মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলা হলেও মোটেই তা বজায় থাকছে না। যে যার মতো খোলামেলাভাবে চলাচল করছে। ফলে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা । বাড়ছে শনাক্তের হারও। বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। তবে এগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ঘোষিত ১৮ দফা ও লকডাউন বাস্তবায়নে সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে। প্রয়োজনে নির্দেশ অমান্যকারীদের জন্য শাস্তি ও জরিমানার বিধান রাখা যেতে পারে। যদি করোনা সংক্রমণের এমন ঊর্ধ্বগতির লাগাম এখনি টেনে ধরা না যায় তবে ভবিষ্যতে ভয়াবহ বিপদ অপেক্ষা করছে। আসুন, স্বাস্থ্যবিধির বিষয়গুলো নিজে মানি এবং অন্যকে মানতে উত্সাহিত করি।
মো. আশরাফুল ইসলাম
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়