করোনা ভাইরাস মহামারির ক্ষতি পোষাতে সরকারঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের মেয়াদ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রাক্-বাজেট আলোচনা শেষে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘করোনা মহামারির জন্য গত বছর প্রধানমন্ত্রী ২৩টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। সেখান থেকে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হয়েছেন, সেটি তারা অস্বীকার করেননি। তাদের দাবি হলো, যেহেতু এই করোনা এখনো আমাদের দেশে রয়ে গেছে, সেহেতু সমস্যাগুলো তাদের এখনো মোকাবিলা করতে হচ্ছে, তাই সেটার মেয়াদ আরো বাড়ানো যায় কি না, সেটা তাদের মূল দাবি। যেসব সুযোগ-সুবিধা তারা পাচ্ছেন না, সেগুলো উপস্থাপন করেছেন তারা। গতকাল মোট ১২টি ব্যবসায়ী সংগঠন প্রাক্-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়েছে। তারা তাদের মতামত, সমস্যা, প্রাপ্তিসহ সবকিছু আমাদের জানিয়েছেন। মূলত যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে, তার মধ্যে বেশির ভাগই রাজস্বসংশ্লিষ্ট।’
আগামী বাজেটে ব্যবসায়ীদের দাবি কতটুকু রাখা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সুবিধা বাড়ানো বা কমানোর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত। গতবার আমরা যে কাজগুলো করেছি, সেটি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই করা হয়েছে। এবারও নিশ্চয়ই তিনি আরো পরিকল্পনা করছেন, যেখান থেকে যেভাবে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা যায় সেগুলো তিনি করবেন। অর্থসচিবের নেতৃত্বে বাজেট নিয়ে আমাদের বাজেট টিম কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের বাজেটের যে রূপরেখা আছে, সেখানে তাদের পরামর্শ নিয়ে দেশের জন্য যেসব পরামর্শ উপযোগী ও কল্যাণকর, সরকার অবশ্যই সেগুলো বিবেচনায় নেবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যে ধরনের দাবি এসেছে, সেগুলো অযৌক্তিক বলব না, কারণ তাদের দাবির পরিমাণ তো বেশিই থাকে। আমরা কতটুকু দাবি নিতে পারব সেটি বাজেট টিম, ব্যাংক, এনবিআরসহ যারা আছে তাদের সাথে বসে সিদ্ধান্ত নেব।’ দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে আরো সমৃদ্ধ ও প্রসারিত করাই আগামী (২০২১-২২) অর্থবছরের বাজেটের মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।
করোনা পরিস্থিতিতে আসছে বাজেটে কোন বিষয়গুলো প্রাধান্য পাওয়া উচিত জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বাজেটের সব সময়ই একটা লক্ষ্য থাকে। এবারের যে লক্ষ্য, আমাদের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে আরো সমৃদ্ধ করা, আরো সম্প্রসারিত করা। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে রাজস্ব বড়ানো। তবে রাজস্ব বাড়াতে গিয়ে যেন অন্য কোনো বিষয় মুখোমুখি চলে না আসে সেদিকে লক্ষ রাখতে হচ্ছে। আমাদের অভ্যন্তরীণ শিল্পকে আরো সমৃদ্ধ করতে চাই। এটি বিকশিত হলে আমাদের রাজস্ব আদায় সহজ হবে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে।’
প্রাক্-বাজেট আলোচনায় অংশ নেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট শেখ ফজলে ফাহিম, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রেসিডেন্ট ড. রুবানা হক, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) প্রেসিডেন্ট এ কে এম সেলিম ওসমান এমপি, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার নিহাদ কবীর, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট রিজওয়ান রহমানসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।