ক্ষণজন্মা

বিচারপতি ড. রাধাবিনোদ পাল

জাপানে তাঁর নাম অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়, বলা হয় ‘ভারতীয় জাপানি বন্ধু’। তাঁর পরম  বন্ধু বিশিষ্ট জাপানি ব্যক্তিত্ব শিমোনাকা ইয়াসাবুরোও এবং তাঁর যৌথ নামে কানাগাওয়া-প্রিফেকচারে রয়েছে ‘পাল-শিমোনাকা স্মৃতি জাদুঘর’, টোকিও এবং কিয়োতো শহরে রয়েছে দুটি নান্দনিক স্মৃতিফলক।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পূর্ববর্তী জাপান আর বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী জাপান এক নয়। জাপানিরা সাম্রাজ্য বিস্তারের চিন্তা ত্যাগ করে জাতিগঠনে মনোনিবেশ করেন। জাপানি জনগণের এই বিরাট পরিবর্তনের পেছনে টোকিও মিলিটারি ট্রাইব্যুনালের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে বলে কোনো কোনো গবেষক মনে করেন। বিচারে জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়। এই বিচারের অন্যতম বিচারক ছিলেন তত্কালীন ব্রিটিশ-ভারতের নাগরিক বিচারপতি ড. রাধাবিনোদ পাল। ইংরেজিতে লিখিত ১২৭৫ পৃষ্ঠার এক ব্যতিক্রম, বিচক্ষণ ও সাহসী রায়ের মাধ্যমে জাপানকে ‘যুদ্ধাপরাধ’-এর অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। তিনি কুষ্টিয়া জেলার এক নিভৃত পল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন ১৮৮৬ সালে।

বিচারপতি পালের জীবন অত্যন্ত বর্ণাঢ্য। গণিতশাস্ত্রের অধ্যাপক থেকে ভারত সরকারের ইনকাম ট্যাক্স বিষয়ে লিগ্যাল অ্যাডভাইজার, আইনশাস্ত্রের অধ্যাপক, টেগোর ল প্রফেসর, আইনজীবী, আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ, কলিকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি এবং কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য থেকে টোকিও মিলিটারি ট্রাইব্যুনালের (১৯৪৬-৪৮) অন্যতম বিচারকের পদ অলংকৃত করেন। অর্জন করেন ভারত সরকারের ‘পদ্মবিভূষণ’ পদক এবং জাপানের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘পার্পল রিবন’। ১৯৫২ সালে দ্বিতীয়বার জাপান সফর করেন। জাপানিরা তাঁকে বিপুলভাবে সংবর্ধিত করেন। ১৯৬৭ সালের ১০ জানুয়ারি তাঁর মহাপ্রয়াণ ঘটে।

মোশাররফ হোসেন মুসা