সংকটে খুলনার চাষিরা
এনামুল হক, খুলনা অফিস
উচ্চ মূল্যে চিংড়ি পোনা ক্রয়, খাবারের মূল্যবৃদ্ধি ও সেই সঙ্গে চিংড়ির দাম অর্ধেকে নেমে আসায় বিপাকে পড়েছে খুলনার সংকটে পড়েছে খুলনার চিংড়ি চাষিরা। ডুমুরিয়া উপজেলার চিংড়ি চাষি কৌশিক বাগচি বলেন, গলদা ও বাগদা চিংড়ি চাষ লাভজনক ব্যবসা। ১৯৯৭ সাল থেকে চিংড়ি চাষ করে আসছি। খুবই ভালো যাচ্ছিল। তবে, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে চিংড়ির দাম কমে যায়। ২০ গ্রেডের যে চিংড়ি ৮৩০ টাকা থেকে ৮৪০ টাকায় বিক্রি করেছি, বর্তমানে সেই চিংড়ি বিক্রি করতে হচ্ছে ৫২০ টাকা ৫৩০ টাকায়। চিংড়ির মূল্য অর্ধেকে নেমে গেছে। ফলে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, করোনার আগে চিংড়ি চাষে মাসে দেড় লাখ টাকা আয় ছিল। কিন্তু করোনাকালীন সেই আয় ৫০ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। তবে চলতি বছরে ভালো লাভের আশায় প্রস্তুতি নিয়েছি। সেই অনুযায়ী ঘের প্রস্তুত করছি।
পাইকগাছা উপজেলার চিংড়ি চাষি নাজমুস সাদাত সিদ্দিকী সুমন বলেন, করোনার আগে চিংড়ি চাষ মোটামুটি ভালো ছিল। তবে, করোনার কারণে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। গত বছর লোকসান গেছে। নতুন বছরে ভেবেছিলাম পরিবর্তন হবে। তা আর হয়নি।
ডুমুরিয়া উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, চাষিদের চিংড়ি রেণু বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। আগে ১ হাজার রেণু কিনতে হতো ১ হাজার টাকায়। এখন সেই রেণুর দাম হয়েছে ৩ হাজার টাকা। চিংড়িসহ সাদা মাছের খাদ্যেরও দাম বেড়েছে। অন্যদিকে চিংড়ি বিক্রি করতে গিয়ে লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের। আগে যে চিংড়ি কেজি প্রতি বিক্রি হতো ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা; সেই চিংড়ি এখন কেজিপ্রতি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে চিংড়ি চাষিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে করোনার কারণে যেসব চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ডুমুরিয়া উপজেলার ৪ হাজার ১১৪ জন চাষিকে ছয় ক্যাটাগরিতে বাছাই করে ৬ কোটি ২২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।
খুলনা জেলা মত্স্য কর্মকর্তা মো. আবু সাইদ বলেন, করোনার কারণে চিংড়ি চাষিরা সঠিক সময়ে চিংড়ি আহরণ করতে পারেননি। সেই সঙ্গে চিংড়ি উত্পাদনের উপকরণসামগ্রী সংগ্রহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর ওপর খাবারের দাম বৃদ্ধিসহ শ্রমিক সংকট ছিল। ফলে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে, চাষিদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সরকার প্রণোদনা প্রদানসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।