মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা
বর্ষা যেতে না যেতেই এক সময় ছোট ফকিরানী নদী শুকিয়ে যেত। বোরোর মৌসুম না আসা পর্যন্ত নদী পাড়ের কৃষকদের এক রকম হাত গুটিয়েই বসে থাকতে হতো। আর জেলেরাও চলে যেত অন্য পেশায়। কিন্তু গত দুই বছর আগে নলডাঙ্গা এলাকায় রাবার ড্যাম নির্মাণ করার ফলে নলডাঙ্গা, বাগমারা ও মান্দায় এসব সমস্যা দূর হয়েছে। দেখা গেছে, বাগমারায় নদী কূলের কৃষকরা এখন বাড়তি ফসল উত্পাদন করতে পারছে। আর জেলেরা বর্ষা চলে গেলেও ব্যস্ত সময় কাটায় মাছ ধরা নিয়ে।
বাগমারা উপজেলার বিএমডিএর উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, নদী শুকিয়ে গেলে একমাত্র পানির অভাবে হাজার হাজার কৃষক নদী সংলগ্ন এলাকায় চাষাবাদের কোনো কাজ করতে পারে না। তিনি জানান, বিগত দুই বছর পূর্বে নাটোরের নলডাঙ্গা এলাকায় বিএমডিএর উদ্যোগে রাবার ড্যাম নির্মাণ করার ফলে নলডাঙ্গা, বাগমারা ও মান্দা এলাকার কৃষকের ভাগ্য খুলে গেছে। তারা এখন নদীর চর এলাকায় আলু, বেগুন, পিঁয়াজ, মরিচ, সরিষাসহ প্রায় ১৪/১৫ প্রকার রবি শস্য উত্পাদন করতে পারছে। উপজেলার প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে রাবার ড্যামের সৃষ্ট পানি দিয়ে এসব রবিশস্য আবাদ হচ্ছে। শুধু রবিশস্যই নয়। এসব এলাকার জেলেরা এখন সারা বছর নদীতে পানি পেয়ে মাছ শিকার করে সহজেই জীবিকা নির্বাহ করতে পারছে। কাচারি কোয়ালীপাড়ার কৃষক আমিনুল হক, ইয়াছিন আলী ও কুদ্দুস জানান, রাবার ড্যামের ফলে এখন নদীতে পানি থাকায় নদী পাড়ের কৃষকরা অতি সহজেই বিভিন্ন আলু, পেঁয়াজসহ রবিশস্য উত্পাদন করতে পারছে। একই এলাকার মত্স্যজীবী জুয়েল, কাওসার জানান, রাবার ড্যামের কারণে এখন নদী ভরা পানি থাকায় জেলেরা খেয়া জাল দিয়ে মাছ ধরতে পারছে।
বাগমারা বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, সরকারের রাবার ড্যাম প্রকল্প চালু হওয়ায় কৃষক মত্স্যজীবীসহ নিম্ন আয়ের লোকজন সহজেই উপকৃত হতে পারছে। এর ফলে কৃষি ও মত্স্য খাতে বাড়তি উত্পাদন সম্ভব হচ্ছে। তার মতে, রাবার ড্যাম প্রকল্প আরো সম্প্রসারণ করে পাওয়ার পাম্প দিয়ে নদী সংলগ্ন খালের ভেতর পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি করা হলে অন্তত পাঁচ কিলোমিটার এলাকার উর্বর জমি চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব হবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাজিবুর রহমান জানান, বিএমডিএর রাবার ড্যাম প্রকল্পে কৃষক, মত্স্যজীবীসহ নিম্ন আয়ের মানুষ উপকৃত হচ্ছে। তবে কিছু এলাকার স্লুুইস গেট পুরাতন ও অকেজো হওয়ায় রাবার ড্যামে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ঐসব স্লুইস গেট দিয়ে অতি সহজেই বিল এলাকায় পানি ঢুকে বিলের আবাদি জমি তলিয়ে যাচ্ছে। তার মতে, এই প্রকল্পকে পরিকল্পনার মাধ্যমে আরো সম্প্রসারণ করা হলে শুষ্ক মৌসুমে অনেক অনাবাদি জমি চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব হবে।