বেশির ভাগ ক্ষেত্রে উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি
ইত্তেফাক রিপোর্ট
করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে কঠোর বিধি নিষেধের পঞ্চম দিনে শপিংমল ও দোকানপাট খুলেছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর বিভিন্ন শপিংমল ও দোকানপাট খুলে দেওয়া হয়। যা চলে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত। লকডাউন চলা সত্ত্বেও আগামী ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন নিয়মে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শপিংমল ও দোকানপাট খোলা রাখা যাবে বলে গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও এতে জানানো হয়। গতকাল থেকে দোকান ও শপিংমল খুললেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মানা হয়নি স্বাস্থ্যবিধি। তবে বড় শপিংমলগুলো তো স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিতে দেখা গেছে। তবে দোকানগুলোতে নেই সামাজিক দূরত্ব। অধিকাংশ ক্রেতা-বিক্রেতার মুখে মাস্ক থাকলেও, সেটি বেশির ভাগই নেই সঠিক জায়গায়। এ বিষয়ে মিরপুরের একটি মার্কেটের এক সিকিউরিটি গার্ড বলেন, ‘আমাদের অফিস থেকে আগেও স্যাভলনের পানি দিয়েছি।’ মার্কেটের এক জুতা ব্যবসায়ী জানান, ‘পাঁচ দিন পর দোকান খুলেছি। আমরা মাস্ক ছাড়া কাউকে দোকানে ঢুকতে দিচ্ছি না।’ সামাজিক দূরত্বের বিষয়ে তিনি জানান, ‘একসঙ্গে অনেক ক্রেতা ঢুকে পড়ে। আমরা তাড়াতাড়ি বিদায় করার চেষ্টা করি।’
এদিকে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হলেও তা মানার জন্য প্রশাসনের কোনো তদারকি চোখে পড়েনি। এদিকে পহেলা বৈশাখ , রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে অনেকদিন পর মার্কেট খোলার পর যে ভিড় থাকার কথা ছিল তা চোখে পড়েনি। দোকানপাটে তেমন ক্রেতা সমাগম নেই, দোকানদাররা বসে আছেন। অনেক শপিংমলে গিয়ে দেখা গেছে, ক্রেতা না থাকায় দোকানদাররা আলাপচারিতায় সময় পার করছেন।
আরেকটি শপিংমলের এক দোকানদার বলেন, ‘চার দিন পর দোকান খুলেছি। বুঝতেই পারেন ভীষণ দুশ্চিন্তায় আছি। কোনো ব্যবসা নেই। কীভাবে মাস চলবে জানি না?’
শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ থাকায় আর্থিক ক্ষতির কথা জানিয়েছেন দোকানদাররা। একটি সুপার মার্কেটের এক দোকানদার বলেন, ‘শপিংমলগুলোতে বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করে দোকান নিতে হয়। গত বছর থেকে করোনা সংক্রমণে আমাদের আর্থিক ক্ষতির হিসাব দিয়ে শেষ করা যাবে না। এভাবে ক্ষতি হতে থাকলে আমাদের পথে বসতে হবে।’ তিনি বলেন, সরকারের উচিত জনগণ যাতে স্বাস্থ্যবিধি মানে সেজন্য কড়াকড়ি আরোপ করা। সবকিছু চলছে, ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে রাখলে অর্থনীতি কোথায় গিয়ে ঠেকবে ? ’