হিমছড়ি সৈকতে ভেসে এসেছে মৃত তিমি

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে রামুর হিমছড়ি পয়েন্টে ভেসে এসেছে বিশালাকার এক মৃত তিমি। গতকাল শুক্রবার বেলা ১টার দিকে জোয়ারের পানিতে ভেসে এসে বালিয়াড়িতে আটকা পড়ে তিমির গলিত মৃতদেহটি। খবর পেয়ে সেখানে তিমিটি দেখতে ভিড় জমায় হাজারো উত্সুক জনতা। জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, পুলিশ প্রশাসন, বনবিভাগের কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে যান। বিকালের জোয়ারে আবারও ভেসে যাওয়া রোধে মৃতদেহটি শুকনো ডাঙায় তোলার চেষ্টা চালায় প্রশাসন। তিমিটির মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে যান ভেটেরিনারি সার্জনরা।

রামুর খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুল মাবুদ জানান, পর্যটন স্পট হিমছড়ির বড়ছরার পূর্বাংশে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বিশালাকার তিমি মাছটি জোয়ারের পানিতে ভেসে আসে। বেলা ১টার দিকে ভাটার সময় এটি বালিয়াড়িতে আটকা পড়ে। তিমিটির ওজন প্রায় তিন টন হতে পারে বলে জানিয়েছেন জেলেরা। এটি লম্বায় প্রায় ৪৫ ফুট ও চওড়ায় ১০ ফুট। মাছটির শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পচে            গেছে ও দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।  কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের সদর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা সমীর কুমার সাহা জানান, মৃত তিমিটির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় তিমির মৃতদেহটিকে মাটিচাপা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে  কয়েক দিন আগেই তিমিটি মারা গেছে। তবে কি কারণে মারা গেছে সেটি ময়নাতদন্তের পর জানা যেতে পারে।

কক্সবাজার জেলা মত্স্য কর্মকর্তা এস এম খালেকুজ্জামান বলেন, এ প্রজাতির তিমি আমাদের বঙ্গোপসাগরে রয়েছে। বিশেষ করে সুন্দরবনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এসব তিমি চোখে পড়ে। হয়তো তিমিটি মারা যাওয়ার পর ভাসতে ভাসতে কক্সবাজার সৈকতের উপকূলে ভিড়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আমিন আল পারভেজ বলেন, লকডাউনের কারণে সৈকতে লোকসমাগমে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু মৃত তিমি ভেসে আসার খবরে হাজারো উত্সুক জনতা ঘটনাস্থলে আসেন।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, তিমি মাছের কাটা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নানা ওষুধি গুণসম্পন্ন বলে শুনেছি। তাই সেসব সংরক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ করা হয়েছে।

কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের মতে, ১৯৯১ সালে উখিয়ার ইনানী সৈকতে ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে হিমছড়ি সৈকতে এভাবে মৃত তিমি ভেসে এসেছিল বলে তথ্য রয়েছে। ২০২০ সালে লকডাউনের সময়ে সৈকতে ডলফিন ভেসে এসেছিল। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি হত্যার শিকার হয়।