অপহরণ করে ২ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে র্যাবের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে রাজধানীর হাতিরঝিল থানা পুলিশ। তামজিদ হোসেন নামে এক যুবককে র্যাব সদস্যরা অপহরণ করে ২ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহূতের বোন রাইয়ানা হোসেনের কাছে। তামজিদের বাড়ি মগবাজারের ১/২, মীরবাগ এলাকায়।
এ ঘটনায় তামজিদের বোন রাইয়ানা বৃহস্পতিবার রাতে হাতিরঝিল থানায় মামলা করেন। এরপর পুলিশ তদন্তে নামে। শুক্রবার দুপুরে পুলিশ চার জন র্যাব সদস্যকে গ্রেফতার করে হাতিরঝিল থানায় নিয়ে আসে। গ্রেফতারকৃত র্যাব সদস্যদের মধ্যে তিন জন সেনাবাহিনীর সদস্য ও একজন বিমান বাহিনীর সদস্য। পলাতক রয়েছেন আরো দুই জন। তাদের মধ্যে একজন বিজিবি ও একজন সাধারণ মানুষ। এ ব্যাপারে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন যে অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ র্যাবের চার সদস্যকে আটক করেছে। বিকালে পুলিশ ঐ চার সদস্যকে র্যাবে হস্তান্তর করেছে। তারা র্যাবের সদস্য কী না, তদন্ত করা হচ্ছে। তারা যদি র্যাব সদস্য হয়, অবশ্যই তদন্ত করব। তদন্ত করে তারা যদি অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তাহলে অবশ্যই আইনগতভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাতিরঝিল থানা সূত্রে জানা গেছে, রাইয়ানা হোসেন এজাহারে অভিযোগ করেন, তার বড় ভাই তামজিদ হোসেন তাদের মীরবাগের বাসা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় উত্তরায় যাওয়ার কথা বলে বের হন। দুপুর ১২টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তাকে ফোন করে র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জানান, তার ভাই তামজিদ র্যাবের হেফাজতে আছেন। থানা পুলিশ বা ডিবি পুলিশকে জানালে তার ভাইকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে। এ কথা বলে ফোন কেটে দেন ঐ ব্যক্তি।
রাইয়ানা অভিযোগে আরো বলেন, আমি পরে অনেকবার ফোন করলে ঐ অজ্ঞাত ব্যক্তি রিসিভ করেননি। পরে আনুমানিক দুপুর দেড়টায় ফোন রিসিভ করে ঐ অজ্ঞাত ব্যক্তি জানান আমার ভাইকে র্যাবের সিনিয়র অফিসাররা জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। তার নামে অস্ত্র ও মাদক মামলা হবে।
রাইয়ানা অভিযোগে আরো বলেন, আমার ভাইকে র্যাবের কোন অফিসে, কোন সিনিয়র অফিসার জিজ্ঞাসাবাদ করছেন জানতে চাইলে ঐ অজ্ঞাত ব্যক্তি জানান, এই মুহূর্তে আমার ভাই কোন অফিসে আছে তা বলা যাবে না। তাকে ক্রসফায়ারও দেওয়া হতে পারে। যদি আপনার ভাইকে বাঁচাতে চান তাহলে দুই কোটি টাকা রেডি করেন। এর কিছুক্ষণ পর র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দানকারী সেই ব্যক্তি মোবাইল ফোনে আমার ভাইকে তাদের সহযোগীদের দ্বারা মারধরের শব্দ শোনান এবং আমার ভাইকে মোবাইল ফোন দিলে আমার ভাই কাঁদতে কাঁদতে জানায়, ‘তাকে চোখ বেঁধে গাড়িতে তুলে বেদম মারধর করছে। আমার ভাই কাঁদতে কাঁদতে বাঁচার আকুতি জানায়। পরবর্তীতে ঐ নম্বর থেকে আরো অজ্ঞাত ২/৩ জন ফোন করে টাকা জোগাড় করতে পেরেছি কি না, আমার কাছে জানতে চায়। আমি তাদেরকে বলি, আমরা গরিব মানুষ। এত টাকা কোথায় পাব? একপর্যায়ে র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দানকারী সেই ব্যক্তি ১৫ লাখ টাকা দাবি করেন। আমাদের কাছে কোনো টাকা নেই জানালে সেই ব্যক্তি নগদ ১২ লাখ টাকা নিয়ে রাজধানীর একটি অভিজাত মার্কেটে যেতে বলে। থানা পুলিশ বা ডিবি পুলিশকে জানালে আমার ভাইকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। আনুমানিক বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে আমার ভাইয়ের ব্যবহূত মোবাইল ফোন থেকে কল করে আমার সঙ্গে ভাইয়ের কথা বলিয়ে দেওয়া হয়। আমার ভাই তখন তাকে খুব মারধর করছে বলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাদের দাবিকৃত টাকা দিয়ে দিতে বলে। আমরা তখন তার অবস্থান জানতে চাইলে সে পুনরায় জানায়, তার হাত-পা ও চোখ বাঁধা। সে কোথায় আছে বলতে পারবে না।