ফটিকছড়ির ভূজপুরে ছাত্রলীগের হরতালবিরোধী গাড়ি মিছিলে পরিকল্পিতভাবে হামলা ও তাণ্ডবের বিচার শেষ হয়নি গত আট বছরেও। তিন নেতা হত্যা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং অনেক আসামির নাম অভিযোগপত্র থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এফ রহমান হলে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ঐ ঘটনায় নিহত আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক ইকবাল বিপুলের স্ত্রী সানজিদা আরফিন নিসু। নিহত মো. রুবেল ও মো. ফোরকান উদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল গাড়ি মিছিলে হামলা চালিয়ে ফারুক ইকবাল বিপুল (৩৯), মো. রুবেল (২২) ও মো. ফোরকান উদ্দিনকে (২৭) পিটিয়ে হত্যা করে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা। হামলায় আহত হয় দুই শতাধিক ব্যক্তি। ঐ দিনের তাণ্ডবে মোটরসাইকেল, ফায়ার সার্ভিসের গাড়িসহ ২০০-র বেশি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নিহত ও আহতদের স্বজনরা বিচারের আশায় দিন গুনছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সানজিদা আরফিন নিসু বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতা ও প্রশ্রয়ে মামলার আসামিরা পার পেয়ে যাচ্ছে। ভূজপুর হামলার মূল পরিকল্পনাকারী আসামি ইকবাল, মোল্লা জালাল ও তৌফিককে চারটি মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে। তিনি অভিযোগ করেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের যোগসাজশে মূল আসামি ও পরিকল্পনাকারীদের থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। মূল আসামিদের বাদ দিয়ে আদালতে চার্জশিট দেওয়ার কারণে নারাজি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই মামলা পিবিআইয়ে তদন্তাধীন রয়েছে। যেসব তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের বাঁচানোর চেষ্টায় লিপ্ত, তাদেরকেও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, ফটিকছড়ির তাণ্ডবের ঘটনায় ভূজপুর থানায় পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়। ২০১৪ সালের ১১ জুন নিহতদের পরিবারের দায়ের করা তিনটি মামলার চার্জশিট চট্টগ্রাম আদালতে দাখিল করে পুলিশ। এই তিনটি মামলা বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে। সরকারি সম্পদ ধ্বংস ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার দায়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে দায়ের করা দুটি মামলা আদালতে বিচারাধীন। ২০১৩ সালের এই দিনে হরতালবিরোধী মিছিল কাজীরহাট বাজারে পৌঁছালে মসজিদের মাইকে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে হামলা চালায় জামায়াত-শিবির। রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ভূজপুর, কাজীরহাট, কালাইয়ারটেক, ন্যাশনাল স্কুল, আজিমপুর, ফকিরহাট, বাইন্যাপাড়া ও ব্রিকফিল্ড এলাকা।