হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালের দিন ও আগে-পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডবের ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ৪৮টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় এজাহারভুক্ত ২৮৮ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৩৫ হাজার মানুষকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ১৪ দিনে গ্রেফতার করা হয়েছে মাত্র ৫৫ জনকে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় ৪৩টি, আশুগঞ্জ থানায় তিনটি ও সরাইল থানায় দুটি মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক ইমতিয়াজ আহমেদ।
এদিকে গত ২৬, ২৭ ও ২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের বিভিন্ন সহিংস ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের প্রেক্ষাপটে জেলার সব থানাসহ বিভিন্ন পুলিশ ফাঁড়ি ও তদন্ত কেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জেলা পুলিশ লাইনস, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, ৯ থানা ও বিভিন্ন পুলিশ ফাঁড়ি ও তদন্ত কেন্দ্রের সামনে বালির বস্তা ফেলে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদারসহ জনবল বৃদ্ধি ও ২৭টি এলএমজি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। এসব নিরাপত্তা পোস্টে আধুনিক ও ভারী অস্ত্রসহ প্রশিক্ষিত পুলিশ সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে। দুষ্কৃতকারীরা যেন কোনো পুলিশ স্থাপনায় হামলা বা সহিংস ঘটনা ঘটাতে না পারে সেজন্য ঊর্ধ্বতন অফিসারগণ নিয়মিত মনিটরিং করছেন। এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রইছ উদ্দিন বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা বহাল থাকবে।
বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা নিয়ে হেফাজত মিথ্যাচার করছে বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রলীগ। গতকাল শুক্রবার দুপুরে প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত্ হোসেন শোভন লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর নির্দেশে জামিয়া ইউনুছিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসায় হামলা ও মানুষ হত্যার অভিযোগকে মিথ্যা ও তথ্যসন্ত্রাস বলে উল্লেখ করা হয়। সেসঙ্গে পুরো ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে ছাত্রলীগ। সংবাদ সম্মেলনে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেলসহ অন্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।