বিনোদন রিপোর্ট
‘আমি রাষ্ট্রের কোনো অনুকম্পা চাই না। যদি মৃত্যুও হয়, সেটিও স্বেচ্ছায় মেনে নিচ্ছি।’—অভিমান নিয়েই শিল্পী তপন চৌধুরী এই কথাগুলো বললেন।
গত ৯ এপ্রিল তার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। উল্লেখ্য, তপন চৌধুরী কানাডায় প্রবাস যাপন করলেও গানের টানে, শিল্পের টানে বছরের অনেকটা সময় দেশে ছুটে এসেছেন। এবারে এই করোনা অতিমারির দাপটে পরিবারসহ সবার সুরক্ষার কথা চিন্তা করে কানাডাতে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তি অনুষ্ঠানে গাওয়ার আমন্ত্রণ এবং আয়োজকের কাছে ইতিবাচক সাড়া পেয়ে দেশে এসেছিলেন। ভেবেছিলেন দেশের এই স্মরণীয় সময়টাতে নিজের গান নিয়ে হাজির থাকবেন মঞ্চে। কিন্তু আসার পর সেই আয়োজক সদস্যরা কোনো খোঁজখবর নেননি। বিস্ময়ে তাই বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন তপন চৌধুরী। তপন চৌধুরী বলেন, ‘আমি তো সেঁধে জীবনে কোনো অনুষ্ঠানে গাইতে চাইনি। জীবনেও এ কাজটি করিনি। কিন্তু ঐ লোকটিকে আমি কোনোদিন ক্ষমা করবো না। আমার কাছ থেকে সব কাগজপত্র নিয়ে মৌখিকভাবে চূড়ান্ত করলে আমি রওনা দিই দেশের উদ্দেশ্যে। কারণ একজন শিল্পী হিসেবে এই ঐতিহাসিক দিনটিতে গাইতে পারা এক অন্যরকম আনন্দের। আমরা তো সম্মানের/ভালোবাসার কাঙাল। অথচ দেশে এসে এমন আচরণ। এদিকে গতকাল জানতে পারি আমি করোনা পজিটিভ। বাসা থেকেই চিকিত্সা নিচ্ছি। কানাডায় আমার পরিবারের সকলেই চিন্তিত। আমি জানি না কী হবে আমার। কোনোকিছুই তো বলা যায় না। তবে বেঁচে থাকতে যে বা যারা এমন অপমান করলো, জানি আমার মৃত্যুর পর তারাই শোকবার্তা আর গল্পে ছেয়ে ফেলবে সারাদেশ। তাই এসব মুখোশধারীদের কোনো অনুকম্পা আমি চাই না। আজ আমার পরিবার আমাকে দোষারোপ করছে যে, কেন এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলে এলাম। শিল্পী হিসেবে তো গানটাই গাইতে চেয়েছি। কারো দুই পয়সা মেরে খাইনি। তবু ঐ লোকটি কেন আমার সঙ্গে এমন করলো!’ বর্তমান শারীরিক অবস্থার কথা জানতে চাইলে তপন চৌধুরী বলেন, ‘ভালো আছি। বাসায় বসেই চিকিত্সা নিচ্ছি। আমার ভক্ত এবং যারা আমার গানকে ভালোবাসেন, শ্রদ্ধায় রাখেন তারা দোয়া করবেন।’