শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
শরণখোলায় ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন ১০/১৫ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা নিতে আসছে। গত ১০ দিনে ৬২ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে খাওয়ার পানির সংকটকে এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত ১ এপ্রিল থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত উপজেলার চারটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ৬২ জন। শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভর্তি ছিল ১২ জন রোগী। উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজার কদমতলা, ঝিলবুনিয়া ও পূর্ব খাদা এলাকায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, স্থান সংকুলান না হওয়ায় রোগীদের মেঝেতে বিছানা দিতে হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. ফয়সাল আহমেদ জানান, প্রতিদিন হাসপাতালে ৮/১০ জন করে ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হচ্ছে। এছাড়া অনেক রোগী বহির্বিভাগ থেকে চিকিত্সা নিয়ে ফিরে যাচ্ছে। এলাকায় বিশুদ্ধ পনি সংকটের কারণে এ ডায়রিয়া দেখা দিয়েছে এবং গত এক সপ্তাহে শতাধিক লোক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে বলে ঐ মেডিক্যাল অফিসার জানান।
রায়েন্দা ইউপি সদস্য জালাল আহম্মেদ রুমী জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট চলে আসছে। মানুষ পুকুরের দূষিত পানি খেয়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। অনেকে বাড়িতে থেকে পল্লি চিকিত্সকদের কাছ থেকে চিকিত্সা নিচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরিদা ইয়াসমিন জানান, শরণখোলা এমনিতেই লবণাক্ত এলাকা। এর মধ্যে চৈত্র-বৈশাখ মাসে পুকুরগুলোর পানি তলানিতে নেমে যায়। যে কারণে বাধ্য হয়ে মানুষ ঐ দূষিত পানি পান করে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইন ও আইভি স্যালাইন মজুত থাকায় রোগী সামলাতে কোনো সমস্যা হবে না। রায়েন্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন জানান, পানি সংকট সমাধানে কিছু পুকুর খনন ও পণ্ড স্যান্ড ফিল্টার (পিএসএফ) স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের চিকিত্সা ও প্রকোপ যাতে বৃদ্ধি না পায় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলবেন বলে তিনি জানান। এছাড়া বিশুদ্ধ পানির সংকট সমাধানে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।