বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমস
সোহেল সারোয়ার চঞ্চল
বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমস দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শুধু কোভিড-১৯ নামের করোনার মহামারির কারণে খেলাধুলার দুনিয়ায় যত খেলা হয়েছে বা এখনো হচ্ছে তার মধ্যে বাংলাদেশ গেমসও বাংলার ক্রীড়াবিদ, সংগঠক, কোচ, আয়োজকদের কাছে বিশেষ জায়গা পাবে। এই করোনার মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার ক্রীড়াবিদের অংশগ্রহণ খুব সহজ ছিল না। একটা কঠিন যুদ্ধের ময়দান পার করেছেন বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা। কঠিন চ্যালেঞ্জের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন কর্মকর্তারা।
গতকাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে সংক্ষিপ্ত আয়োজনে ১০ দিনের গেমসের পর্দা নেমেছে। এই ১০ দিন যে সব যে সব ক্রীড়াবিদ পারফরম্যান্স করেছেন তাদের নিয়ে তৈরি করা ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়েছে। স্টেডিয়ামে দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা মশালটি যখন নিভে যায় অনেকেরই খারাপ লাগছিল। আবার কবে হবে খেলার লড়াই। বিওএর মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা বললেন, ‘আমরা যুব গেমসটি করেছি। কথা ছিল দুই বছর পর পর যুব গেমস এবং বাংলাদেশ গেমস হবে। কিন্তু করোনায় সবকিছু কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। গত বছর গেমস করতে চেয়েও হয়নি। এবার না হলে আবার কবে হতো তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। লকডাউনের কারণে অনেক কিছুই বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। আমরা এতো ক্রীড়াবিদের অংশগ্রহণের মধ্যে যখন খেলাটা শুরু করেছি, তখন লকডাউনের কথা শুনে আরো সাবধানতার সঙ্গে অবশিষ্ট খেলাগুলো শেষ করতে পেরেছি। সেটা করতে হয়েছিল স্বাস্থ্যবিধিটাকে আরো কঠিন করে। সবাইকে গ্রামের বাড়িতে পাঠানোর কাজটিও আমাদের জন্য সহজ ছিল না। এক জন ক্রীড়াবিদ যেন সমস্যায় না পড়ে।’
গেমসে খেলার মান খুব একটা ভালো না থাকলেও সব খেলায় হয়েছে এটা বলা যাবে না। ক্রিকেটের আয়োজনটা ভালো হয়নি। দায়সারাভাবে শেষ করা হয়েছে। আরো সুন্দর পরিকল্পনায় এ খেলাটি হতে পারত। ব্যর্থ হয়েছেন টোকিও অলিম্পিকে কোয়ালিফাই করা আর্চারির রোমান সানা। শুটার আব্দুল্লাহেল বাকি হতাশ করেছেন। শুটিং, সাঁতার, সাইক্লিং, আর্চারি, ব্যাডমিন্টন, ভারোত্তোলনের মতো খেলাগুলোতে নতুন ক্রীড়াবিদের সন্ধান পেয়েছেন ফেডারেশন কর্মকর্তারা। ব্যাডমিন্টনে উর্মি আক্তার নিজেকে তুলে ধরেছেন। শুটিংয়ে আনজিলা আক্তার, আর্চারিতে অসীম কুমার, সাইক্লিংয়ে বিশ্বাস ফয়সালদের জন্য এ গেমস ছিল নতুন পথচলা।
২০১৩ সালের অষ্টম বাংলাদেশ গেমসে নতুন রেকর্ড হয়েছিল ২২টি। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমসে ৩১ ডিসিপ্লিন ঠিক থাকলেও করোনার কারণে ক্রীড়াবিদদের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছিল। তার পরও এবার গেমসে ছিল রেকর্ডের ছড়াছড়ি। নতুন জাতীয় রেকর্ড হয়েছে ৬০টি। ভারোত্তোলনে ৩৪টি, সাইক্লিংয়ে ১৩টি, সাঁতারে ১১টি এবং ১টি আর্চারি ও ১টি অ্যাথলেটিকসে।
ভারোত্তোলনে সর্বাধিক তিনটি করে রেকর্ড গড়েন টানা দুটি এসএ গেমসে সোনাজয়ী ভারোত্তোলক আনসারের মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। তিনি রেকর্ড গড়েন ৬৪ কেজি ওজন শ্রেণিতে।
খেলার আনন্দে গতকাল নবম বাংলাদেশ গেমসের মশাল নিভেছে। নতুন শপথে মশাল নিভেছে। বিওএর মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে যুব গেমস এবং ২০২৫ সালে দশম বাংলাদেশ গেমস অনুষ্ঠিত হবে।