প্রতিবাদ করায় এক ব্যক্তিকে অপহরণ, পরে উদ্ধার

শেরপুরে অবৈধভাবে মাটি কেটে রাস্তা নষ্ট

শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা

বগুড়ার শেরপুরে অবৈধভাবে মাটি কেটে এলাকার চলাচলের রাস্তা নষ্ট করার প্রতিবাদ করায় একজনকে অপহরণ করে সন্ত্রাসীরা। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে তথ্য দেওয়ার ছয় ঘণ্টার মাথায় অপহূত ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে বগুড়ার শেরপুর থানা পুলিশ। তার নাম আবু জামাল খন্দকার ওরফে আরজু (৪৮)।

শুক্রবার দুপুরে উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের খোর্দ্দ বগুড়া গ্রাম থেকে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। উদ্ধার হওয়া ঐ ব্যক্তি উপজেলার সীমাবাড়ী ইউনিয়নের সদর হাঁসড়া গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে। বিকালে ভুক্তভোগী নিজেই তিন জনের নাম উল্লেখ করে শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে জানা যায়, সদর হাঁসড়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদের পাঁচ বিঘা ফসলি জমির মাটি কাটছেন পাশের ভবানীপুর ইউনিয়নের মাটি-বালু ব্যবসায়ী জহুরুল হক। অসংখ্য ড্রাম ট্রাকে এসব মাটি পরিবহনের কারণে গ্রামের মানুষের চলাচলের সড়ক বেহাল হয়ে পড়ে। এতে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে বিষয়টি মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। সেইসঙ্গে বৃহস্পতিবার রাতে ঐসব ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা শুরু করলে এলাকাবাসী বাধা দেয়।

স্থানীয়দের বাধার মুখে মাটি কাটা বন্ধ করে মাটি-বালু দস্যুরা চলে গেলেও জামাল খন্দকার ওরফে আরজুকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে বাগিবতণ্ডা হয়। এর জের ধরে শুক্রবার ভোরে স্থানীয় একটি ইটভাটায় যাওয়ার পথে জামাল খন্দকারকে অপহরণ করে মাটিদস্যু জহুরুল হক ও তার লোকজন। সেইসঙ্গে বেধড়ক মারপিট করে তাকে খোর্দ্দ বগুড়া গ্রামস্থ বসতবাড়ির একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। একই সঙ্গে অপহূত ব্যক্তির পরিবারের কাছে মুক্তিপণ চাওয়া হয়। এরপর ঘটনাটি জানতে পেরে গ্রাম্য মাতব্বর মুকুল হোসেন ৯৯৯-এ ফোন করে সব তথ্য দেন। এরপর অপহূত ব্যক্তিকে ছয় ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়।

ভুক্তভোগী জামাল খন্দকার বলেন, তাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে অপহরণ করেছিল জহুরুল বাহিনীর সদস্যরা। এজন্য তাকে বেধড়ক মারপিট করেছে। নানা কৌশলে মুক্তিপণ হিসেবে প্রায় ৬৫ হাজার টাকাও লুটে নেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত জহরুল হক জানান, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো নাটক। তবে মাটি কাটা নিয়ে জামাল খন্দকার ও গ্রামের কিছু লোকের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

শেরপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম শহিদ বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।