স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই মার্কেটে ক্রেতারা

সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞার কারণে চার দিন বন্ধ ছিল মার্কেট। গত শুক্রবার থেকে ব্যাবসায়ীদের চাপে মার্কেট খুলে দেওয়া হয়েছে। ঐদিনই মার্কেটগুলোতে উপচে পড়ে ক্রেতা। গতকাল শনিবার মার্কেটগুলোতে মানুষের আনাগোনা ছিল ব্যাপক। কিন্তু ঐসব মার্কেটে স্বাস্থ্যবিধির কোনো তোয়াক্কা করা হয়নি। প্রথমদিকে কেউ কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতা বাড়ায় উধাও হয়ে যায় স্বাস্থ্যবিধি। এদিকে আইইডিসিআরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ৫ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত যারা সংক্রমিত হয়েছে তাদের ৬১ শতাংশ বাজারে গিয়েছেন। গণপরিবহনও ব্যবহার করেছেন ৬১ শতাংশ মানুষ।

গতকাল নিউমার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনী চক, নূরজাহান মার্কেটে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। আগের মতোই গাদাগাদি করে প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রেতাদের কিনতে দেখা গেছে। তবে এই ভিড়েও ক্রেতারা কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানেননি। এদের দেখে বোঝার উপায় নেই যে, গোটা দেশই এখন মহামারিতে রয়েছে! করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেও মার্কেট খুলে দেওয়ার কারণ ব্যবসার বিষয়টি। তবে খুলে দেওয়ার আগে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানতে তাদেরকে শর্ত দেওয়া হয়েছিল। বিক্রয়কর্মীরা কিছুটা মানলেও মানছেন না ক্রেতারা।

নিউমার্কেটের এক দোকানকর্মী তালেবুল ইসলাম বলেন, আমাদের এখানে ধানমন্ডি থেকেই বেশি মানুষ কেনাকাটা করতে আসেন। এরা শিক্ষিত এবং পয়সাওয়ালা। এরা স্বাস্থ্যবিধি না মানলে আমরা কি বলতে পারি? বললেও এরা শুনতে চান না। রফিক নামের আরেক দোকানি বলেন, বেশির ভাগ লোকজনই থুতনিতে মাস্ক রেখে কথা বলে। দোকানে ঢুকে হাঁচি দেয়। সচেতন করার চেষ্টা করি। ওরা শিক্ষিত মানুষ, কিন্তু মানে না। তবে অনেকে আবার দারুণ সচেতন। এদেরকে আলাদা ভাবে কিছু বলতে হয় না।

এদিকে নতুন করে কঠোর লকডাউন দেওয়ার কথা শুনে আবারও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন দোকান-মালিকরা। তারা বলেন, একটি দোকানের ভাড়া খরচ মিলিয়ে প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা গুণতে হয়। দোকান বন্ধ থাকলে এই টাকা আসবে কোথা থেকে? আগে একবার ফকির হয়েছি, আমাদেরকে বারবার ফকির করবেন না। ভাড়া মওকুফের ব্যবস্থা করে লকডাউন দিন, না হলে আমাদের পথে বসতে হবে।

এদিকে গত এক মাসে সংক্রমণ বেশি ছড়িয়েছে বাজার ও গণপরিবহন থেকে। দেশে এই সময়ে ৬১ শতাংশ মানুষ বাজারে গিয়ে বা গণপরিবহন ব্যবহার করে সংক্রমিত হয়েছেন। বিগত সময়ে দেশের পিকনিক স্পট থেকে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ালেও সেটি এখন কমে এসেছে। বর্তমানে মাত্র ৪ শতাংশ মানুষ পর্যটন কেন্দ্রে গিয়ে সংক্রমিত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে আইইডিসিআরের প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, দেশের ২৬ শতাংশ রোগী স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র থেকে সংক্রমিত হয়েছেন। ২২ শতাংশ রোগী সংক্রমিত হয়েছেন আগেই শনাক্ত হওয়া রোগীর সংস্পর্শে এসে। আর ১৩ শতাংশ রোগীর ইতিহাস থেকে দেখা যায়, তারা আন্তঃবিভাগ ভ্রমণ করেছেন। এছাড়াও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন ১২ শতাংশ ও পর্যটনকেন্দ্রে ঘুরতে গিয়েছিলেন ৪ শতাংশ। প্রায় সাড়ে ৮ হাজার রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর।